স্বল্প খরচের দেশীয় মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর বা কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস যন্ত্র।
VENTUS (ভেন্টাস) কী?
VENTUS (ভেন্টাস) হলো বাংলাদেশি গবেষকদের গবেষণায় তৈরি একটি স্বল্প খরচের দেশীয় মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর বা কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস যন্ত্র।
যে জীবনের আবিষ্কার শুধু মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ, সেই জীবনই তো প্রকৃত কৃতিত্বের।
করোনাকালীন সময়ে সেদিন যদি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা কাশেম কাকার নিষ্পলক চাহনি কিংবা বাঁচার আকুতি ডা. আসিফের চোখে না পড়ত, যদি ডা. স্বাক্ষরের ফোনটি আসিফ ভাইয়ের মুঠোফোনে না আসত, কিংবা তাদের চিন্তায় লাইফ সাপোর্টের সংকট বারবার ঘুরপাক না খেত, তাহলে হয়তো দেশীয় প্রযুক্তিতে একটি লাইফ সাপোর্ট মেশিন তৈরির কথা তেমন কারও মাথাতেই আসত না।
সেই সময় হাসপাতাল রোগীতে পরিপূর্ণ। আইসিইউতে বেড নেই, লাইফ সাপোর্ট নেই, অক্সিজেন নেই—সব মিলিয়ে চারদিকে শুধু হাহাকার।
কাশেম কাকা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন, এটা সত্য। কিন্তু তার অসহায়তা যেন কিছু চিকিৎসকের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল—একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই লাইফ সাপোর্টের ঘাটতি দেশীয় প্রযুক্তিতেই অনেকটা পূরণ করা সম্ভব।
এরপর শুরু হলো আবিষ্কারের নেশায় ঝাঁপিয়ে পড়া। ডা. আসিফ ও ডা. স্বাক্ষরের সঙ্গে যুক্ত হলেন আরেকজন মানুষ—ইঞ্জিনিয়ার শুভ। কী মনে করেছেন, এত সহজেই ভেন্টিলেটর তৈরি হয়ে গেছে? মোটেও না।
দীর্ঘ সাত বছরের সাধনা। এর পাশাপাশি ছিল নানা পারিপার্শ্বিক, রাজনৈতিক, কর্পোরেট ও সিন্ডিকেটের চাপ, যাতে কোনোভাবেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হয়।
একটা অপ্রিয় সত্য কথা বলি, ২০২১ সালে ঢাকা মেডিকেলে প্রকল্পটির সফল ট্রায়াল হয়েছিল। কিন্তু অসাধু চক্রের তৎপরতায় সেই সময় প্রকল্পটি থেমে যায়।
এখন আপনি বলতেই পারেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে একটি ভেন্টিলেটর আবিষ্কার নিয়েও মানুষের এত মাথাব্যথা কেন?
অবশ্যই মাথাব্যাথা আছে। কারণ, এটি সফল হলে অনেক স্বার্থান্বেষীর অর্থ উপার্জনের পথ সংকুচিত হয়ে যাবে।
অতঃপর ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর এবং হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এগুলোর বাণিজ্যিক উৎপাদনে পূর্ণ সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
দূর থেকে শুভেচ্ছা রইল পুরো VENTUS টিমের জন্য ।
আর আসিফ ভাইকে শুধু একটি কথাই বলতে চাই—অসহনীয় নির্যাতনে কিডনি বিকল হওয়ার পর যে জীবনটি আপনি ফিরে পেয়েছেন, সেটি এক অর্থে বোনাস। সেই বোনাস জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত সাধারণ মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করুন। বিনিময়ে কিছুই প্রত্যাশা করিয়েন না। উপরে একজন আছেন—তিনি হয়তো সবই দেখছেন, সবকিছুরই হিসাব রাখছেন।
