বাকস্বাধীনতা
বাকস্বাধীনতা বোঝেন তো?
আপনার যা শুনতে অপছন্দ, যা শুনে ঘৃণা, হিংসা কিংবা ক্রোধ জন্মাবে,সেটাই অন্য কেউ নির্ভয়ে বলবে। আর আপনি তার সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন, প্রতিবাদ করতে পারেন, যুক্তি দিয়ে খণ্ডনও করতে পারেন। কিন্তু শুধু আপনার অপছন্দের কারণে কারো মুখ বন্ধ করে দেওয়ার অধিকার আপনার নেই।
এটাই বাকস্বাধীনতা।
বাকস্বাধীনতা মানে শুধু নিজের পছন্দের কথা বলার স্বাধীনতা নয় বরং এমন কথাও বলার অধিকার, যা আপনার বিশ্বাস, স্বার্থ কিংবা আরামকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
মনে রাখবেন, মতের স্বাধীনতা মানেই মতের মিল নয়। কেউ আপনার মতো করে ভাববে না,এটাই স্বাভাবিক। পৃথিবীটা আপনার চিন্তার ছাঁচে তৈরি হয়নি, আর অন্য মানুষের বিবেকও আপনার অনুমতির ওপর নির্ভরশীল নয়।
আপনি চাইলে যুক্তি দিয়ে জবাব দিন, সমালোচনা করুন, নিজের অবস্থান তুলে ধরুন। কিন্তু ভিন্নমত দেখলেই কণ্ঠরোধের চেষ্টা,এসব বাকস্বাধীনতার বিরোধিতা, যুক্তির নয়। বরং যুক্তির কাছে পরাজয়ের লক্ষণ।
দিনশেষে, আপনার মনোরঞ্জন করার দায়িত্ব কেউ নিয়ে বসে নেই।
সবার সব কথা আপনার ভালো লাগবে, এমন কোনো কথা নেই । কিছু কথা অস্বস্তি দেবে, কিছু কথা প্রশ্ন তুলবে, কিছু কথা রাগিয়ে দেবে, আবার কিছু কথা হয়তো নিজের অবস্থান নিয়েই ভাবতে বাধ্য করবে।
সেই অস্বস্তিটুকু সহ্য করার মানসিকতাও স্বাধীনতারই অংশ।
সর্বোপরি একটা অপ্রিয় সত্য কথা বলি, যে সমাজ শুধু প্রশংসা শুনতে চায়, সে সমাজ ধীরে ধীরে সত্য শোনার সক্ষমতাটাই হারিয়ে ফেলে।
