ছোট কাগজ | লোরকা
বলি, হে তরুণেরা: তোমরা যারা এখনও চোখ বেচোনি, দেখছো না কি চলছে চারদিকে! ব্যক্তি পঁচছে, সমাজ গলছে, রাষ্ট্র ক্ষইছে। মাছির ভনভনানিতে টেকা দায়। ভুরভুর করছে গুবরে পোকা। দাপাদাপি করছে শেয়াল-শকুন।
তোমরা হাতে কি চুড়ি পরেছো? চোখে কি ঠুলি এঁটেছো? কানে কি চাবি মেরেছো? নইলে এত নির্ভার কেন হে? খোঁয়ারের রাঙা ছাগল সেজে, স্মার্টফোনের কাছে নিজেকে বাঁধা রাখলে চলবে? ইজ্জতটা যে মোমের মতো বিন্দু বিন্দু গলছে—টের পাও না? নাকি ভরা হাটে উদোম হওয়ার ইচ্ছে!
যাগ্গে—এবারে মুখের কুলুপটা খোলো দেখি। সটান হাতে কলম ধরো। এই ব্যবস্থাকে ছিঁড়তে হবে। ফানাফানা করে। নইলে সামনে পথ নেই।
লিখো: সর্বগ্রাসী দানব পুঁজির বিরুদ্ধে, দাঁতাল শুয়োরের ক্ষমতার বিরুদ্ধে, বারো-ভাতারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে, গলা-পুঁজ শিল্প সাহিত্যের বিরুদ্ধে, কর্পোরেট হাউসের গুখেকো সম্পাদকদের বিরুদ্ধে; আর অতি অবশ্যই সাহিত্য-সম্মেলন মাড়িয়ে বেড়ানো বোকাচোদ কবিদের বিরুদ্ধে।
কথাগুলো শুনে পোষা কুকুরের মতো মাথা দুলিয়ে কেবল হ্যাঁ-হু করো না। ক্লিয়ার বলে দিই, ওসব দোলানি চলবে না ব্রাদার—বিকল্প মত চাই, বিকল্প মত। তোমাদের কলম শেষবারের মতো হলেও গর্জুক। আর, তার রক্তিম ছিঁটে এসে পড়ুক শতাব্দীর প্রথম বড় লোরকার পাতায়।
