কবে হবে?

in আমার বাংলা ব্লগ • 17 hours ago

46569.jpg
source

সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার পেছনের গল্প যেন নতুন কোনো বিষয় নয়! বছরের পর বছর ধরে একই চিত্র, একই অভিযোগ, একই ভোগান্তি। পরিবর্তনের আশ্বাস আসে, আলোচনা হয়, তদন্তের কথাও শোনা যায় কিন্তু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যেন কোনোভাবেই কমে না।

তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, এই অব্যবস্থাপনার শেষ কোথায়? কবে মিলবে প্রতিকার, কেউ কি তা জানে?

অথচ চিকিৎসা কোনো দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়, বরং এটি একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

রাষ্ট্রের কাছে একজন নাগরিকের প্রত্যাশা খুব বেশি কিছু নয়,অসুস্থ হলে যেন ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, দক্ষ চিকিৎসক এবং নিরাপদ পরিবেশটুকু নিশ্চিত হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র বড্ড ভয়ংকর!

কোথাও চিকিৎসকের সংকট, কোথাও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব, কোথাও ওষুধের অপ্রতুলতা, আবার কোথাও দায়িত্বে অবহেলা ও জবাবদিহির অভাব। এর সঙ্গে যদি যুক্ত হয় অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার কিংবা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো মহলের দৌরাত্ম্য, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালই হয়ে ওঠে এক অনিশ্চিত গন্তব্য।

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, যাদের সামর্থ্য আছে তারা বিকল্প চিকিৎসাব্যবস্থার দিকে ছুটতে পারেন কিন্তু যাদের সেই সামর্থ্য নেই, তাদের ভরসার জায়গা এই সরকারি হাসপাতালগুলোই। ফলে অব্যবস্থাপনার সবচেয়ে নির্মম শিকার হতে হয় সমাজের সাধারণ ও অসহায় মানুষকে।

আমরা কারও বিরুদ্ধে অযথা অভিযোগ তুলতে চাই না, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করাও উদ্দেশ্য নয়। আমরা শুধু জানতে চাই, রাষ্ট্রের বরাদ্দ, জনবল, অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও মানুষ কেন কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে? দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি কোথায়? আর এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষ কবে মুক্তি পাবে?

মনে রাখতে হবে, একটি সরকারি হাসপাতাল কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি অসংখ্য মানুষের শেষ ভরসার জায়গা। সেই ভরসাটুকু নষ্ট হওয়ার দায় কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

চিকিৎসা অধিকার, অনুগ্রহ নয়। আর এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।