অস্থির পৃথিবী, অসহায় সাধারণ মানুষ

in সাহিত্য ক্যানভাস • 13 days ago
অস্থির পৃথিবী, অসহায় সাধারণ মানুষ

অস্থির পৃথিবী_ অসহায় সাধারণ মানুষ.png


আসসালামু আলাইকুম


পৃথিবীটা যেন দিন দিন আরও ব্যস্ত, আরও অস্থির হয়ে উঠছে। কোথাও মানুষ রাস্তায় নেমে নিজের অধিকার ও দাবি জানাচ্ছে, কোথাও অর্থনৈতিক সংকট, কোথাও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাড়তি দাম, আবার কোথাও কাজের অভাব আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত সমস্যার ধরন হয়তো আলাদা, কিন্তু সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তাগুলো অনেকটাই একই রকম।

দিন শেষে মানুষ আসলে কী চায়? একটু শান্তি, পরিবারের মুখে হাসি, পরিশ্রম করে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ আর আগামীকালটা যেন আজকের চেয়ে একটু ভালো হয়, এর বেশি কি খুব বেশি কিছু? কিন্তু বাস্তবতা সবসময় মানুষের চাওয়ার সঙ্গে মেলে না।

একজন সাধারণ মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই হয়তো হিসাব করেন, আজকের বাজারে কত টাকা খরচ হবে। মাসের শুরুতে যে টাকা দিয়ে সংসার চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন, মাস শেষ হওয়ার আগেই হয়তো সেই হিসাব এলোমেলো হয়ে যায়। চাল, ডাল, তেল, সবজি, ওষুধ, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, প্রতিটি খরচ যেন নিজের জায়গা থেকে আরও বেশি চাপ তৈরি করছে। আয় যদি একই থাকে, অথচ খরচ বাড়তে থাকে, তাহলে সেই পরিবারের মানুষগুলো কীভাবে নিজেদের সামলাবেন?

একজন বাবা হয়তো নিজের প্রয়োজনের জিনিসটি না কিনে সন্তানের জন্য টাকা জমিয়ে রাখেন। একজন মা হয়তো সংসারের খরচ বাঁচাতে নিজের অনেক ইচ্ছা বাদ দেন। একজন তরুণ হয়তো পড়াশোনা শেষ করে কাজের অপেক্ষায় দিন কাটান। আবার কেউ কাজ পেয়েও নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন না, কারণ মাস শেষে পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তাঁর নিজের স্বপ্নগুলোর জন্য আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। এই মানুষগুলোর গল্প খুব সাধারণ। অথচ এই সাধারণ গল্পগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর অসংখ্য মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম।

বর্তমান পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের সংকট, সামাজিক অস্থিরতা, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে প্রভাবিত করছে। কোথাও মানুষ কাজ হারানোর ভয় নিয়ে বেঁচে আছে, কোথাও পরিবার চালানোর চিন্তা, কোথাও আবার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। এসব পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে তাদের ওপর, যাদের হাতে সঞ্চয় কম, আয় সীমিত এবং বিকল্প সুযোগও খুব বেশি নেই। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, একজন সাধারণ মানুষ সব সমস্যার সমাধান করতে পারেন না। তিনি হয়তো বিশ্বজুড়ে কী ঘটছে, তা খবরের মাধ্যমে জানতে পারেন, কিন্তু নিজের পরিবারের খাবার, সন্তানের পড়াশোনা কিংবা চিকিৎসার খরচের ব্যবস্থা করতেই তাঁকে প্রতিদিন লড়াই করতে হয়।

তবুও মানুষ থেমে থাকে না। কষ্টের মধ্যেও কাজে যায়, পরিবারের জন্য চেষ্টা করে, নতুন কোনো সুযোগের অপেক্ষা করে। হয়তো অনেক সময় মুখে হাসি থাকে, কিন্তু ভেতরে জমে থাকে অসংখ্য চিন্তা। কারণ দায়িত্ব বলে একটা বিষয় আছে, আর সেই দায়িত্বের কাছে অনেক ব্যক্তিগত কষ্টকেও নীরবে সরিয়ে রাখতে হয়। আমার মনে হয়, এমন পরিস্থিতিতে আমাদের একে অপরের প্রতি একটু বেশি সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। কারও অবস্থা না জেনে তাকে বিচার করা খুব সহজ, কিন্তু তার জায়গায় দাঁড়িয়ে তার সমস্যাটা বোঝার চেষ্টা করা অনেক কঠিন। যে মানুষটি আজ ভালো নেই, তার হয়তো একটু সহযোগিতা প্রয়োজন। যে মানুষটি চুপচাপ আছেন, তাঁর হয়তো এমন কাউকে প্রয়োজন, যিনি মন দিয়ে তাঁর কথা শুনবেন।

আমরা সবাই হয়তো একসঙ্গে পৃথিবীর সব সমস্যা সমাধান করতে পারব না। কিন্তু নিজের জায়গা থেকে কিছু ভালো কাজ করতে পারি। অপ্রয়োজনীয় অপচয় কমাতে পারি, বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি, কারও অসহায়ত্ব নিয়ে উপহাস না করে তাকে সম্মান দিতে পারি। সামর্থ্য অনুযায়ী কাউকে সাহায্য করা কিংবা বিপদের সময় একটু সাহস দেওয়া, এগুলোও মানুষের জীবনে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আর একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, কঠিন সময় চিরকাল একই রকম থাকে না। পরিস্থিতি বদলায়, নতুন সুযোগ আসে, মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। তাই বাস্তবতাকে অস্বীকার না করে সমস্যাগুলো বুঝতে হবে, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে এবং আশাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

পৃথিবী যতই অস্থির হোক, মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব যেন হারিয়ে না যায়। আমরা এমন একটি পৃথিবী চাই, যেখানে একজন মানুষ শুধু বেঁচে থাকার জন্য নয়, সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্যও সুযোগ পাবেন। যেখানে পরিশ্রমের মূল্য থাকবে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা থাকবে এবং অন্যের কষ্টকে নিজের মতো করে বোঝার চেষ্টা থাকবে। কারণ দিন শেষে আমরা সবাই মানুষ। আমাদের হাসি আলাদা হতে পারে, জীবনযাত্রা আলাদা হতে পারে, কিন্তু শান্তিতে বাঁচার আকাঙ্ক্ষাটা প্রায় সবারই এক।

হয়তো পৃথিবীকে একদিনে বদলে দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু একজন মানুষের কষ্টের সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে তার পৃথিবীটাকে একটু সহজ করে দেওয়া সম্ভব।




photo_2021-06-28_11-13-39.jpg

আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।

A5tMjLhTTnj4UJ3Q17DFR9PmiB5HnomwsPZ1BrfGqKbjddgXFQSs49C4STfzSVsuC3FFbePnB7C4GwVRpxUB36KEVxnuiA7vu67jQLLSEq12SJV1etMVkHVQBGVm1AfT2S916muAvY3e7MD1QYJxHDFjsxQDqXN3pTeN2wYBz7e62LRaU5P1fzAajXC55fSNAVZp1Z3Jsjpc4.gif



বিষয়: অস্থির পৃথিবী, অসহায় সাধারণ মানুষ: জীবন যেন প্রতিদিনের এক নতুন পরীক্ষা

কমিউনিটি : সাহিত্য ক্যানভাস

আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ...

Sort:  

High-Yield Curation by @steem-seven

Your content has been supported!

| Vote Witness @seven.wit | Meet Speak on Steem |
|---|---|---|


We are the hope!

S7VEN Banner