হৃদয়ের স্পন্দন'গল্প পর্ব:১১

in আমার বাংলা ব্লগ4 hours ago

হ্যালো বন্ধুরা,

আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে হৃদয়ের স্পন্দন গল্পের একটি নতুন পর্ব উপস্থাপন করছি। আশা করি, গল্পের এই পর্বটি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।

4991.jpg
সোর্স

পূজা ও রিমি তারা দুজনে সন্ধে নাগাদ বাড়িতে ফিরে আসে। তাদের মা দরজার মুখে দাঁড়িয়ে ছিলো। মাকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখে পূজা একটু ঘাবড়ে যায় কিন্তু রিমি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কারণ পূজার মতন রিমি অতটা নার্ভাস প্রকৃতির মেয়ে নয় সে যে কোন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। যাইহোক, মা দুজনের উদ্দেশ্যে বলে, সেই কখন দুই বোন বেরিয়েছিস সন্ধ্যা ঘুরে গেল বাড়িতে ফিরতে। এত কি বাইরে তোদের কাজ থাকে? মায়ের প্রশ্নের উত্তরে রিমি বলে, মা আমরা দু বোন এখন বড় হয়েছি। আমরা এখন কলেজে পড়াশোনা করছি। এখন যদি বাইরে একটু ঘোরাঘুরি না করি তাহলে ঘুরবো আর কখন?চাকরি পেয়ে গেলে তো আর ঘুরতে পারবো না। মা বলে, সবই তো বুঝলাম কিন্তু এত বাইরে থাকা ভালো নয় লোকে খারাপ বলবে। রিমি বলে, লোকে কি বলবে আর না বলবে তাই শুনে কি আমাদের চলতে হবে মা? লোকের কাজ তো লোকের নিন্দা বন্ধ করা। মা বলে, তোর সঙ্গে কোন কথা বলা যায় না কোন কথা বললেই চ্যাটাং চ্যাটাং করে উত্তর দিতে থাকিস। তোর দিদিকে দেখে একটু শেখ দেখেছিস কতটা শান্ত থাকে আর তুই তার বোন হয়ে চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলিস। রিমি বলে, ওতো তোমাদের ভয়ে কোন কথাই বলতে পারে না।সব কথা তো আমারই বলতে হয় ওর হয়ে। যাই হোক, তুমি কি বাইরে দাঁড়িয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলবে। অনেক দূর থেকে এসেছি, ফ্রেশ হতে হবে দরজার মুখ থেকে সরা তো এখন। এই বলে, রিমি ভিতরে প্রবেশ করে। আর তখন মা পূজাকে বলে, তোর বোনকে একটু বোঝা ওর সঙ্গে তো কোন কথাই বলা যায় না। পূজা নরম গলায় বলে, তুমি কিছু মনে করো না মা তুমি তো জানো তোমার ছোট মেয়ে কেমন প্রকৃতির।


রিমি পূজাকে ডাক দিয়ে বলে,দিদি আয় তো মায়ের সঙ্গে অত কথা বলতে হবে না ফ্রেশ হয়ে নে। এরপর পূজা ও চলে যায়। তার মা ও তার কাছে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। পূজা রুমে এসে রিমিকে বলে, কেমন রে তুই? মায়ের সঙ্গে তো একটু ভালোভাবে কথা বলা যায়। সব সময় রেগে কথা বলিস। রিমি পূজাকে বলে, তুই কি মায়ের হয়ে আমাকে বুঝাতে এসেছিস দিদি। আমি যদি ওখানে ওইভাবে কথা না বলতাম তাহলে মা আরও প্রশ্ন করতো। আর তুই তো কিছু বললেই তো তো করিস। আর তারপরে মা সবকিছুই বুঝে নিত। আমি যা করেছি সেটা তোর ভালোর জন্য এখন যদি তুই বলিস খারাপ।তাহলে এরপর থেকে আমি আর কোন কথাই বলব না তুই বলিস। পূজা মিষ্টি করে বলে, ওরে আমার পাগলি বোনটি এত রাগ করিস কেন তুই ছাড়া আমার কে আছে বল। রিমি বলে, তাহলে বলিস কেন আমাকে চুপ করতে। পূজা বলে, এ তো একটু বলতে হয় আমি তোর দিদি না। রিমি হাসতে হাসতে বলে, হয়েছে হয়েছে যা এখন ফ্রেশ হয়ে নে একটু পরে তো আবার রকির সঙ্গে কথা বলতে বসবি। পূজা গম্ভীর কণ্ঠে বলে, তুই নাম ধরে কেন বলছিস ও তোর দাদা হয় বড়দের নাম ধরে ডাকতে নেই। রিমি মুচকি হেসে বলে উঠলো, বাবা এখনো কিছু হয়নি তাতেই এতটা এরপর হলে কি হবে 😊😊।


দুই বোন ফ্রেস হওয়ার পর একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে থাকে। তখন তাদের মা রাতে খাবার খাওয়ার জন্য ডাক দেয়। দু বোন খাবার খেতে নিচে যায় পরিবারের সবাই একসঙ্গে খেতে বসে। দিনের বেলাতে যার যার মতন খাওয়া দাওয়া করলেও রাতে পূজার পরিবার সবাই একসঙ্গে বসে রাতের খাবার খাওয়া শেষ করে। খাবার খাওয়ার সময় পূজার বাবা পূজাকে বলে, পূজা, তোর পড়াশোনা কেমন চলছে? বাবার প্রশ্নের উত্তরে পূজা বলে,হ্যাঁ বাবা ভালোই হচ্ছে। বাবা বলে, আমার কাজের চাপে তোদের দু বোনকে আমি ঠিকভাবে সময় দিতে পারি না। তোর যদি টিউশনি প্রয়োজন হয় তাহলে টিউশনি পড়তে পারিস। আর তোর এ মাসের হাত খরচ টা আরেকটু বাড়িয়ে দেব। পূজা বলে, না বাবা এখন টিউশনি লাগছে না যদি লাগে তাহলে আমি তোমাকে বলবো। আর এ মাসের হাত খরচে টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে কেন তুমি যা দিচ্ছ তাতেই আমার হয়ে যাচ্ছে। বাবা হাসতে হাসতে বলে, 🙂🙂 পাগলি মেয়ে বলে কি, তুই এখন বড় হয়েছিস কলেজে পড়ছিস নতুন বন্ধু হয়েছে। তাদেরকে তো মাঝেমধ্যে খাওয়াতে হয়। তাদের সঙ্গে তো একটু ঘুরাঘুরি করতে হয়। তার জন্য তো টাকার প্রয়োজন নাকি প্রয়োজন না? পূজা বলে, হ্যাঁ বাবা তার জন্য তো টাকা প্রয়োজন।


দিদিকে টাকা বেশি দেবে শুনে রিমি খাওয়া বন্ধ করে খাবারের ফ্লেটে আঙ্গুল দিয়ে অঙ্কন করা শুরু করেছে। এটি তার বাবা দেখতে পায় সঙ্গে সঙ্গে তার বাবা রিমিকে বলে, কিরে খাবার খাওয়া বাদ দিয়ে প্লেটে অঙ্কন করা শুরু করেছিস কেন? রিমি বলে, আমার খেতে ইচ্ছা করছে না। বাবা হাসতে হাসতে বলে, 😀 বুঝতে পেরেছি দিদিকে হাত-খরচের টাকা বেশি দেবো শুনে ভাত খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। চিন্তা নেই এ মাসে তুমিও টাকা বেশি পাবি এখন খেয়ে নে🙂। এই কথা শুনে রিমি ও পূজা দুজনেই বলে উঠলো, বাবা তুমি খুব ভালো 🙂। এই কথা শোনার পর আবার তাদের মা পাশ থেকে বলে উঠলো,তোদের বাবা এই মাসে টাকা বেশি দেবে এটি শোনার পর বাবা এখন ভালো হয়ে গেছে। মা যে সারাদিন কষ্ট করে সবার জন্য রান্না করে খাওয়ায় তার কোন মূল্য নেই। মা ভালো না শুধু বাবাই ভালো। তখন দু বোন বলে, না না আমাদের মা-বাবা দুজনেই খুব ভালো। মা মুচকি হেসে বলে, থাক অনেক হয়েছে আর মন গলাতে হবে না সবাই খেয়ে নাও। সকালে আবার আমার তাড়াতাড়ি উঠতে হবে। তখন পূজার বাবা পূজার মাকে বলে, কেন কোথাও যাবে কি সকালে? পূজার মা বলে, হ্যাঁ একটু বাবার বাড়িতে যাবো। ভাই ফোন করেছিল বাবার শরীরটা খারাপ। তাই বাবাকে একটু দেখতে যাব। পূজার বাবা পূজার মাকে বলে, হ্যাঁ ঠিক আছে তুমি না হয় কদিন বাবার বাড়িতে থেকেই আসো আমরা এদিকে সামলে নিব। পূজাও রিমি বলে, হ্যাঁ বাবা ঠিকই বলেছে।তুমি চিন্তা করো না তুমি ক'দিনের জন্য একটু ঘুরে আসো।

আজ গল্পের পর্বটি এখানে শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সৃষ্টিকর্তার কাছে এটাই প্রার্থনা করি।