"মৃত্যুবার্ষিকী: মা কে ছাড়াই আরও একটা বছর পার হয়ে গেলো"

in Incredible India • 10 days ago (edited)
IMG_20261023_111041.jpg

Hello,

Everyone,

মাঝেমধ্যে অবাক হয়ে ভাবি, এই জীবন আমাদের কতখানি বদলে দেয়। কখনো কখনো নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী মন খারাপ করবার মতন সুযোগ পর্যন্ত দেয় না আমাদেরকে।

এমন পরিস্থিতি আমাদের সামনে এসে দাঁড় করায়, যখন নিজের মন খারাপ নিয়ে ভাবার মতন সময়ও করে উঠতে পারি না। আজকের দিনটা আমার জন্য যথেষ্ট কষ্টের ছিলো এবং অনেক ভারাক্রান্ত মন নিয়েই দিনটি শুরু হয়েছিলো।

কিন্তু সারাদিন পরে যখন এখন পোস্ট লিখতে বসেছি, তখন মনে হলো সত্যিই তো দিনটি পার হয়ে গেলো, অথচ সারাদিনের মধ্যে নিজের মন খারাপের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ পেলাম না।

যাইহোক উপরে ছবিটি দেখে আপনারা হয়তো অনেকেই আন্দাজ করতে পেরেছেন আমার মন খারাপের কারণটি। মৃত্যু আমাদের জীবনের এমন এক সত্যি, যা সকলের জীবনে কখনো না কখনো ঘটবেই। তবে কিছু মানুষের মৃত্যু আমাদের জীবনকে এমন আমুল ভাবে বদলে দেয় যে, সেই মানুষটির অভাব আর কোনো কিছু দিয়েই যেন পূর্ণ করা যায় না।

আর যখন সেই মানুষটি অন্য কেউ নয় নিজের মা হয়, তখন সেই কষ্টের গভীরতা ব্যক্ত করার মতন ভাষা বোধহয় আজও আবিষ্কৃত হয়নি। তবে জীবনের কি অদ্ভুত নিয়ম, সময়ের সাথে সাথে সেই কষ্টটাও যেন মনের ভিতরে চেপে রাখতে শিখে যাই আমরা সকলেই।

এই কিছুক্ষণ আগে ননদ এবং ননদের হাজবেন্ড বাড়ি ফিরে গেলেন। তবে ওনাদের ছেলেরা এখনও রয়েছে আমাদের বাড়িতে। তাই ওনরা যাওয়ার পর, সমস্ত কাজ শেষ করে এখন বসলাম পোস্ট লিখতে।

তবে যদি ওনরা থাকতেন তাহলে হয়তো এখনো লিখতে বসতে পারতাম না। আমরা সুন্দরবন থেকে বাড়ি ফিরেছি বুধবার রাতে এবং বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই আমার ননদের হাজবেন্ডের ভীষণ শরীর খারাপ। কোনোভাবে হয়তো ফুড পয়োজন হয়েছে অথবা গ্যাসের সমস্যার কারণেই এতোটা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

যদিও সুন্দরবনে আমরা সকলেই শেষ দিন খাওয়া দাওয়া করেছিলাম, তবে সেদিন কিন্তু ননদের হাজব্যান্ড কিছুই খাননি। এমনকি বাড়িতে এসে রাতের বেলায়ও একদম হালকা খাবার খেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই তার শরীর খারাপ শুরু হয়েছে। এতবার বাথরুমে যেতে হয়েছে যে, দুপুরের পর থেকেই শরীর একেবারে দুর্বল হতে শুরু করেছিলো।

ওষুধ খাওয়ার পরেও শরীর ঠিক না হওয়ায়, অবশেষে আজ সকালে বাড়িতে ডাক্তার এনে ওনাকে স্যালাইনও দিতে হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে শরীরটা একটু ভালো ছিলো, তাই বাড়ি চলে যাবে ঠিক করেছিলো। এটা বোধহয় সকলের ক্ষেত্রেই হয়, শরীর ভালো না থাকলে অন্য কোথাও থাকতে ইচ্ছা করে না।

আর সকাল থেকেই এই সমস্ত ব্যস্ততার মধ্যে দিনটি পার হওয়ায়, ভারাক্রান্ত মন নিয়ে শুরু হওয়া দিনটা কিভাবে যেন পার হয়ে গেলো তা বুঝতেই পারলাম না। তবে এই মুহূর্তে যেন সমস্ত শূন্যতা চারিদিক থেকে ঘিরে ধরছে আমাকে। মাকে হারানোর এতোগুলো বছর পরেও সেই কষ্টটা যেন তীব্রভাবে অনুভব করছি এখন।

IMG_20261023_235512.jpg

সকালে যখন পুজো দিতে বসেছিলাম তখন অনেকটা সময় নিরিবিলি বসে মায়ের সাথে কাটানো মুহূর্তের স্মৃতি রোমন্থন করলাম। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম তিনি যেন তার কাছে মাকে আশ্রয় দেন। মাকে হারানোর শূন্যতা তো আজীবন থাকবে, তবে তার দেওয়ার শিক্ষা ও নৈতিকতা যেন আজীবন মেনে চলতে পারি, সেই আশীর্বাদ টুকুও চেয়ে নিলাম।

কারণ এইটুকু করেই যদি আগামী জীবন চলতে পারি, তাহলেও বোধ হয় মায়ের মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়াটা সার্থক হবে। অনেক কিছু আয়োজন করা সম্ভব হয়নি এ বছর। তবে আমি খুশি এ বছর অন্তত মায়ের ছবিতে মালাটা পরাতে পেরেছি।

কারণ আগের বছর এই সময় বাথরুমে পড়ে গিয়ে প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছিলাম কোমরে। নিজে থেকে উঠে বসার ক্ষমতা পর্যন্ত ছিলো না। কারো সাহায্য ছাড়া বাথরুমে পর্যন্ত যেতে পারতাম না। ঠিক সেই রকমই দিনের মাঝখানেই মায়ের এই মৃত্যুবার্ষিকীর দিনটা পড়েছিলো, যেদিন মায়ের ছবিতে মালা পরানোর সুযোগও পাইনি।

তাই ঈশ্বরকে ধন্যবাদ তিনি এই বছর আমাকে অন্তত সুস্থ রেখেছেন, যেখানে মায়ের জন্য অনেক কিছু করতে না পারলেও এই সামান্যটুকু করতে পেরেছি। মাকে ছাড়া জীবনের পনেরোটা বছর কাটিয়ে দিলাম। ভাবতেই পারছি না বছরগুলো কিভাবে কেটে গেলো। তবে এই ১৫ বছর আমাকে জীবন অনেক কিছু শিখিয়েছে।

IMG_20261023_111021.jpg

এই ১৫ বছর মাকে হারিয়ে জীবন থেকে যে শিক্ষা নিয়েছি, তার সাথে ছোটোবেলা থেকে মায়ের কাছ থেকে যা শিক্ষা পেয়েছি, সবটুকু নিয়েই ভবিষ্যতের পথ চলা। এই মুহূর্তে মাকে মিস করছি এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে লিখতে গিয়ে চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। তার সাথে বুকটাও ভারী হয়ে আসছে।

এ এক অদ্ভুত শূন্যতার অনুভূতি, যা হয়তো শব্দে প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। তবে যারা জীবনে এই সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, তারা এ অনুভূতি বুঝতে পারবেন এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত।

আমার মায়ের ভালো থাকার জন্য আপনারাও একটু প্রার্থনা করবেন, তিনি যেন ঈশ্বরের কাছে স্থান পান। আজকের লেখা এখানেই শেষ করি।

এখন কিছুটা সময় মায়ের স্মৃতির সাথে অতিবাহিত হোক, কারণ কাল থেকে আবার শুরু হবে সংসারের ব্যস্ততা।

ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।

Sort:  
 9 days ago 

আমি জানি না কেন, তবে আপনাদের সাথে যুক্ত হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর এইদিনে যখন আপনার এই পোস্টটি পড়ি সত্যি ভীষণ খারাপ লাগে৷ হয়ত সামনাসামনি কখনও দেখিনি আপনাদের তবুও এতদিনে অনেক কিছু জেনেছি আপনাদের সাথে কথা বলে তাই হয়ত একটু হলেও উপলব্ধি করতে পারি।

আমি সত্যি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি কারন, আমি চাইলেই মায়ের কোলে মাথা দিতে পারি,মাকে জড়িয়ে ধরতে পারি। ছোটোবেলা থেকে মায়েরা সন্তানকে খাওয়ানোর পর নিজের আঁচল দিয়ে সন্তানের মুখ মুছিয়ে দেয়, আমার এখনও সেই বদ্যাভাস রয়ে গেছে, খাওয়ার পর মায়ের আঁচলে মুখ না দিলে শান্তি লাগে না, আর এই বদ্যাভাস আমি বদলাতে চাই না।

মানুষ বলে সয়মের সাথে সাথে সব ঠিক হয়ে যায়, স্বাভাবিক হয়ে যায় তবে কিছু অনুভূতি কখনও বদলায় না। আজকের দিনটাও আপনার কাছে তেমনই।

আপনার কথাটা সত্যি যে কাউকে দুবার ভাবতে বাধ্য করবে বলে আমার বিশ্বাস যে, ব্যস্ততার মাঝে নিজের খারাপ সময়, মন খারাপের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ পেলেন না, বোধহয় এই অনুভূতিটা আমাদের আরও বেশি কষ্ট দেয়।

আপনি পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছিলেন, আশা করি এখন আগের থেকে সুস্থ আছেন। ভালো থাকবেন।

Loading...