কলকাতা রয়েছে কলকাতাতেই!

সেদিন যখন পুজো দেখতে বেড়িয়েছিলাম দশমীর দিন আমার শহরে, বেশ কিছু পুরোনো জিনিষ দেখে মনে হয়েছিল, কলকাতা রয়েছে কলকাতাতেই!
আগের রাজ্য সরকার ট্রাম বন্ধ করে দেওয়ায় মনটা ভারী খারাপ হয়েছিল জানেন! ওটা তো শুধু একটা যাতায়াতের মাধ্যম নয়, ওটা কলকাতার অমূল্য ঐতিহ্যের অংশ!
তারপর, নতুন সরকার আসার পরে যখন দেখলাম, সেই ট্রাম তারা পুনরায় চালু করেছেন, বেশ খুশি হয়েছিলাম।
তেমনি, পুজো দেখতে যখন প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম, তখন অভিজ্ঞতা আর দৈনন্দিন লড়াইয়ের ছাপ ছিল একজন বৃদ্ধ লোকের চোখে মুখে, যিনি ছিলেন কলকাতায় আজও দেখতে পাওয়া হাতে টানা রিকশা চালক!
এই রিক্সা ভারতের অন্য কোনো শহরে কিংবা রাজ্যে দেখা যায় না, কাজেই সেদিক থেকে কলকাতা শহরের একটি বাড়তি গুরুত্ব আছে বৈকি!

এই শহরের রাস্তায় একদিকে ট্রাম এবং সাথে হলুদ ট্যাক্সি যেনো একসাথে ইতিহাসের মেলবন্ধন!
একাধিক ক্যাব কোম্পানি আজ শহরের রাস্তায় যেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেখানে নিজের রং অপরিবর্তিত রেখে শহরের রাস্তায় আজও যখন পুরোনো হলুদ ট্যাক্সি নজরে পড়ে, তখন মনে হয়, কলকাতা রয়েছে কলকাতাতেই।
নিজের শহর সকলের কাছেই প্রিয়, এমনটা আমার মনে হয়, কারণ খুবই সুষ্পষ্ট, ভালো মন্দ মেনে নিয়ে যেমন ঘরের মানুষদের সাথে আমরা সুদীর্ঘ পথ অতিক্রম করি, তেমনি শহরের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য বলে আমার মনে হয়।

সেদিন রিকশা চালককে দেখে শুধু শহরের ইতিহাস নয় সাথে মানুষটির জীবনের লড়াইবতার কপালের ভাঁজে দেখেছিলাম!
খুব যে খুশি হয়েছিল ছবি তুলতে দেখে এমনটি নয়, কারণ সবাই নিজের লড়াই সর্বসমক্ষে প্রদর্শনে স্বচ্ছন্দ্য বোধ করে না!

এরপর, রাস্তার ফুটপাতে দেখা হয়েছিল সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের সাথে!
মুর্তির আকারে, কলকাতার ইতিহাস তথা নিজের লেখা সাহিত্য তুলে ধরেছিলেন আধুনিক প্রজন্মের কাছে!
সত্যি তো! কতো নামকরা বিশ্ব বরেণ্য লেখক, শিল্পী জন্মেছেন এই কলকাতার মাটিতে, এই বঙ্গের মাটিতে!
স্থাপত্যের বাইরে একাধিক বিষয়বস্তু আমার শহরের রাস্তায় নজরে পড়ে, যেগুলো বুঝিয়ে দেয়, কলকাতা রয়েছে কলকাতাতেই!
সেদিন, লেখায় উল্লেখ করেছিলাম উত্তর কলকাতার পুরোনো বাড়িগুলোর কথা, মনে আছে?


কোনো কোনো বাড়ি শতাধিক বছরের অধিক সময় ধরে এই শহরের ইতিহাস, এই শহরের একাধিক ঘটনার সাক্ষী!
শুধু কি তাই? এই যে বরেণ্য লেখক এবং শিল্পীদের কথা উল্লেখ করলাম, তাদের জীবিত দেখার সুযোগ পেয়েছে এই সমস্ত বস্তু;
যারা হয়তো মানুষের মতো করে নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশে অক্ষম কিন্তু তাদের গায়ের আচর, বেরিয়ে থাকা ইটের আকারের দাঁত সবটাই বলে দেয়।
এরকম একাধিক বিষয় সেদিন নজরে পড়েছিল, আর মনে মনে খুশি হয়ে নিজের মনে মনে বলেছিলাম, কলকাতা রয়েছে কলকাতাতেই!
![]() | ![]() |
|---|
অনেক পরিবর্তন হয়েছে এই শহরে, বিদেশের অনুকরণে অনেক জায়গা সুসজ্জিত হয়েছে, তবে এই চাক-চিক্ক এখনো পুরোনো কিছু বস্তুকে ঢেকে ফেলতে পারেনি নিজেদের আলোকে।
তাই বারংবার মনে হয়েছে, কলকাতা রয়েছে কলকাতাতেই!
আমার নজরে নিজের শহরকে দেখার উপলব্ধি তুলে ধরলাম, লেখা নজরে পড়লে, নিজের শহরের কিছু কথা জানিয়ে যেতে ভুলবেন না, মন্তব্যের মাধ্যমে!





El detalle del rickshaw tirado a mano y el amarillo de los taxis viejos es lo que realmente cuenta como patrimonio vivo, no los pandals. ¿Los tranvías siguen funcionando con las rutas completas o solo quedan líneas testimoniales?
Ese detalle del rickshaw tirado a mano que solo existe en Kolkata me parece el dato concreto más fuerte del post: una ciudad que conserva el tranvía y el taxi amarillo frente a las apps es una resistencia cultural, no solo nostalgia. ¿Vos creés que ese patrimonio aguante la presión inmobiliaria y del transporte moderno, o ya es cuestión de tiempo?