শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারে মহাদেবের কাছে
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গত কয়েক দিন ধরে আপনাদের মাঝে নবদ্বীপে গঙ্গাস্নান যাত্রা কিছু পোস্ট শেয়ার করেছিলাম। আজকে শেয়ার করব শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারে বাবা মহাদেবের পূজার কিছু মুহূর্ত। আমি ছোট থেকেই মহাদেবের ভীষণ ভক্ত। সেই কথা সব পোস্টে শেয়ার করি।সেদিন নবদ্বীপ থেকে ১৫ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে হেঁটে এসে পা ব্যথা হয়ে গিয়েছিল। ভেবেছিলাম আর হয়তো সেদিন হাঁটাচলা করতে পারবোনা। কিন্তু বাড়িতে এসে সমস্ত কাজ একা হাতে করতে হয়েছিল। কারণ শাশুড়ি মা বাড়ি ছিল না। শরীরে না পারলে ও খানিকটা বাধ্য হয়ে করতে হয়েছিল।একেই বলে শ্বশুর বাড়ি। তবে দিদা মামা দুজনেই বকাবকি করছিল। বাড়িতে ফেরার পরেই ওরা আমাকে সেবা যত্ন করতে শুরু করে দিয়েছিল।তাতে আবার সেদিন বাড়িতে মিস্ত্রির কাজ চলছিল ।মিস্ত্রি বাড়ি যাওয়ার পর সমস্ত কিছুই আমি একা একাই করেছিলাম। প্রথম দুদিন পায়ে ব্যথা থাকলেও তারপরে আস্তে আস্তে আপনা থেকেই কমে গিয়েছিল। রবিবারের দিন নবদ্বীপ থেকে গঙ্গার জল নিয়ে এসে মামার বাড়ির সামনে শিব মন্দিরে রেখে দিয়েছিলাম। সেই জল পরের দিন বাবার মাথায় ঢেলে অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করব বলে।
আসলে কিছু পোস্টে আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছিলাম আমি বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলাম। তাই হঠাৎ করেই আমার এই নবদ্বীপ থেকে স্নান করে জল নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত। এর মধ্যেই আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম আমি মহাদেবের মাথায় জল ঢালছি হয়তো উনি আমাকে ইঙ্গিত দিচ্ছিল আমার মাথায় জল ঢাললে হয়তো আমার মাথা ঠান্ডা হবে। আমি সমস্ত বিপদে পড়লেই উনাকেই আগে স্মরণ করি। উনি আমাকে সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করে। সত্যি সেদিন নবদ্বীপ থেকে জল নিয়ে এসে পুজো দেওয়ার পর আমার মাথা একেবারেই ঠিক হয়ে গেছে। না আছে কোন চিন্তা না কোন অশান্তিতে। আগে যেমন ছিলাম ঠিক সে রকমই নিজেকে লাগছে ।সত্যিই যে বাবা মহাদেবের এত কৃপা।
গত সোমবার দিন সকালবেলায় বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম করে চলে গিয়েছিলাম বাবা মহাদেবের মাথায় জল ঢালার জন্য। আগে থেকেই দিদা আর ছোট মামার সমস্ত পুজোর জোগাড় করে রেখেছিল। এটা প্রত্যেকবারের মতো এবারও করেছিল ।আমি যদি মন্দিরের পূজা দিতে যাই আগে থেকে সমস্ত যোগায় দিদা করে দেয়। পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে মামার বাড়ি থেকে ফল, মিষ্টি, ফুল,দুধ, গঙ্গা জল সমস্ত কিছু নিয়ে চলে গিয়েছিলাম পুজো দিতে, যেহেতু এটা ছিল শেষ সোমবার। তাই লম্বা লাইন। সেই লাইনে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম। এখনকার দিনে যেখানেই যাওয়া যাবে সেখানেই লাইন অতিক্রম করে তবেই কাজ সম্পন্ন হয়। সেদিন লাইন অতিক্রম করে বাবা মহাদেবের পূজা সম্পূর্ণ করেছিলাম। সে যেন এক চরম শান্তি।
পূজা সম্পূর্ণ করে যে যার মত কয়েকটা ছবি তুলে নিয়েছিলাম ।এরপর বাড়ি আসার পালা ।কিন্তু দিদা কিছু না খাইয়ে ছাড়বে না ।কারণ আগের দিন আমি অতটা রাস্তা হেটে এসে একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। তাই মামা আবার ওষুধ খাইয়ে দিয়েছিল ।এরপর আবার বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলাম। কারণ বাড়িতে এসে আবারো রান্না বান্না করার বিষয় ছিল। এদিকে বাড়িতে মিস্ত্রি কাজও চলছিল। বাড়িতে শাশুড়ি মা থাকলে ভীষণ অসুবিধায় পড়তে হয়। তবুও কিছু করার নেই। ওই অসুস্থ শরীরে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। সেদিন সকাল থেকেই ছিল আকাশ মেঘলা। পূজো দিয়ে বাড়ি আসার সাথে সাথেই শুরু হয়ে গিয়েছিল ঝমঝম করে বৃষ্টি। যাই হোক শ্রাবণ মাসে শেষ সোমবার দিনটি খুব ভালোভাবেই কাটিয়েছিলাম সেই মুহূর্তই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম
আজ এইখানে শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
![]() |
|---|



