বাপের বাড়ি থেকে হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরা
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গতকালকের পোস্টে আপনাদের মাঝে বাপের বাড়ি যাবার কিছু কথা শেয়ার করে নিয়েছিলাম। বেশিরভাগ মেয়েরা সংসার করতে শুরু করলে খুব দরকার ছাড়া বাপের বাড়ি যেতে একেবারেই চাই না। হয়তো সংসারে যদি ভীষণ চাপ থাকে তবে বাপের বাড়ি যাওয়া থেকে এড়িয়ে চলতে পারে। আসলে সব রকম পরিস্থিতি মানিয়ে মেয়েদের সবসময় বাপের বাড়ি যাওয়া হয়ে ওঠে না। আবার অনেক সময় যেতেও ভালো লাগেনা। পরিস্থিতি চাপে মেয়েদের সব সময় মানিয়ে নিতে হয়। শুধুমাত্র মেয়েরাই পরিস্থিতির চাপে পড়ে সমস্ত কিছু মানিয়ে নেয়। কিছুদিন ধরে বাড়িতে মিস্ত্রির কাজ চলছে বাড়ি ছেড়ে বেরোনোর একেবারে উপায় নেই। তার মধ্যে আবার চাপ এসে পড়েছিল বাপের বাড়িতে যাওয়ার জন্য। এখনো পর্যন্ত কোন কাগজপত্র ট্রান্সফার করা হয়ে ওঠেনি। তাই বাধ্য হয়ে বাবা মায়ের কাছে ছুটতে হয়। তবে এই বর্ষাকালে গ্রামে যেতে একেবারেই ভালো লাগেনা। কারণ কাদা জলের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে একেবারেই অস্বস্তি হয়।
সেদিন রাত্রিবেলায় যখন আবার কোন কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। তাই সেদিন রাত থেকেই ভীষণ রাগ হচ্ছিল। এমনিতেই কিছুদিন ধরে মানুষই অশান্তিতে ভুগছি ।মায়ের উপর মাঝেমাঝে রাগ প্রকাশ করে ফেলি। কারণ এতটা জার্নি করে যাবার পরেও যখন নিজের কাজ সম্পন্ন হয় না।তখন মাথার ঠিক থাকে না। মাকে বারবার বলছিলাম তুমি কেন আগে থেকে সমস্ত কিছু জিজ্ঞেস করে রাখোনি। সেই মতো আমি বাড়ি থেকে আসতাম। মায়ের এখানে কোন দোষ নেই। কারণ আমাদের মত মায়েরা অত বোঝেনা। এখন যত দিন যাচ্ছে ততই কাগজপত্রের সমস্ত বিষয় বদলে যাচ্ছে। তাই মায়ের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। মায়ের উপর রাগ প্রকাশ করতে মা তো রাগ করে বলেই দিল সমস্ত কাগজপত্র ট্রান্সফার করে নিয়ে চলে যাবি। আমি এত ঝামেলা পোহাতে পারবো না। আমার কথা শুনে হয়তো মায়ের খারাপ লেগেছিল। তাই মা নিজের রাগ প্রকাশ করেছিল আমার উপর।
অতদূর জার্নি করে আবারো সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে যখন বাড়ি ফেরার কথা মনে পড়ে যাই তখন যেন আরো বিরক্ত লাগে । এদিকে বাড়ি ফেরার জন্য একের পর এক ফোন আসছিল। এদিকে বাসে করে যাতায়াতের বিষয়টা আমি একেবারেই অপছন্দ করি। তবুও কেন বারবার মাঝে মাঝেই বাপের বাড়ি ছুটতে হয়। বাপের বাড়ি যাওয়ার পর থেকে প্রায় সব সময় বৃষ্টি শুরু হয়েছিল ।এমনকি সকালবেলায় ঘুম থেকে ওঠার পরও বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ওই প্যাঁচ প্যাঁচে কাদার ভিতরে অনেকটা এসে তবেই টোটো ধরতে হয়। মা কিছু রান্না করে না খাইয়ে ছাড়বে না। তাই কোন রকম কিছু খেয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। সকালবেলায় তখনো আকাশে ঘন কালো মেঘ ছিল ।কিন্তু গরম একটুও কম ছিল না। গরমে হাঁসফাঁস করছিল।
যাইহোক বাসস্ট্যান্ডে খানিকক্ষণ দাঁড়ানোর পর তবেই বাস এসেছিল। তবে ফেরার সময়তে তখনও জায়গা পেয়েছিলাম বাসের কেবিনে। বাসের ওইখানে থেকে একটা বাজে দুর্গন্ধ বেরোয় সেটাই আমার একেবারে সহ্য হয় না। ওই গন্ধে আরো অস্বস্তি হয়। তবুও খুব কষ্ট করেই বাড়ির কাছে পর্যন্ত চলে এসেছিলাম। বাসে থাকাকালীন মনে মনে ভাবছিলাম কতক্ষণে বাড়ি পৌঁছাব। তবে আমাদের কৃষ্ণনগরেও বৃষ্টি হচ্ছিল না। তবে এই দিন জার্নি করে এত কষ্ট পেয়েছি তা বলে বোঝানো যাবে না। কোনো রকমে বাড়ি ঢুকেই খানিকক্ষণ ফ্যানের হাওয়া খেয়ে নিয়েছিলাম ।এরপর স্নান করে রেস্ট নিয়ে তবে শরীর সুস্থ হয়েছিল।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

