সৃষ্টিকর্তা কেন আমাকে বারবার পরীক্ষায় ফেলেন ।
![]() |
|---|
Hello,
Everyone.
আমার জানা মতে, কখনো কারো ভালো ব্যাথিত ক্ষতি চাইনি কিংবা কখনো কারো ক্ষতি করিনি। আমার বাবার কথা অনুসরণ করেই চলার চেষ্টা করি ।বাবা আমাদের একটি কথা বলতেন ,পারলে কারো উপকার করো কিন্তু কারো কখনো ক্ষতি করো না , যদি কেউ তোমার কাছে সাহায্য চায়, অর্থ দিয়ে না পারো সঠিক বুদ্ধি ও যুক্তি দিয়ে বিপদ কিভাবে সমাধান করা যায় সেই চেষ্টা করবে।
বাবা যেহেতু সরকারি চাকরি করতেন ,সেই সূত্রে বিভিন্ন জেলায় ঘুরেছি এবং আর্মি বাবুর সাথেও বিভিন্ন বিভাগে ঘুরেছি ।যত মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলার চেষ্টা করেছি ।আমার জানামতে আমি এমন কাউকে কোন কষ্ট দেই নি যাতে সে আমাকে অভিশাপ দিবে।
জানিনা ,তারপরেও কেন, সৃষ্টিকর্তা আমাকে বারবার পরীক্ষায় ফেলেন ।আমাকে কেন ধৈর্য ধরার পরীক্ষায় ফেলেন ।আপনারা সকলেই জানেন কিছুদিন থেকে আমার বাবা-মা অসুস্থ ,তারা আমার বাসায় আছেন। এই প্রায় তিন মাস হল ওদেরকে ডাক্তার দেখাতে আছি।
![]() | ![]() |
|---|
২৭-০৬-২০২৬ তারিখে বাবা-মা এক সঙ্গে ডান চোখ অপারেশন করিয়েছেন ।তারা কিছুটা সুস্থ হচ্ছেন ।এরই মাঝে আমার জ্যাঠী মা ছাদে ফুল তুলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে পা ভেঙে যায় ।এমনভাবে ভেঙেছে যা বরিশাল এর ডাক্তার কোন ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না।
তাকে ঢাকা পাঠিয়েছেন, তিনি পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি আছেন ।তার অপারেশন করা হবে এবং তার পায়ে রড দেয়া হবে ।যেহেতু তার বয়স ৭২ থেকে ৭৪ বছর হবে তাই ডাক্তার কোন ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না । তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন ।
বয়সের সাথে সাথে শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় । তার সাথে যদি এইভাবে বাড়তি ব্যথা থাকে তাহলে তা সহজে সারতে চায় না ।তখন তার খুব কষ্ট হবে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কষ্ট হবে ।
বর্তমান সময়ে বাসায় সাহায্য করার মানুষ পাওয়া খুবই কঠিন বিষয় ।গ্রামের বাড়িতে তো একদমই পাওয়া যায় না বললেই চলে। হাসপাতালে বড় মাকে দেখে এসেছি। হঠাৎ ছোট বোনে প্রচন্ড বুক ব্যথা করছে । সেই রাতে একটুকু ঘুমাতে পারিনি ।
![]() | ![]() |
|---|
পরের দিন ছোট দুলাভাই ওকে নিয়ে হসপিটালে গেলেন। ডাক্তার বোনের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করলেন ।সেখানে ধরা পড়লো তার পিত্তথলি যে পাথর হয়েছে এবং তিন থেকে চারটা পাথর হয়েছে।যত দ্রুত সম্ভব অপারেশন করা প্রয়োজন।
এই সংবাদ শুনে আরো মন খারাপ হয়ে গেল। জানিনা শুধু চারদিক থেকে আমার দুঃসংবাদ আসছে ।আমি এইসব কাটিয়ে কবে সবার কাছ থেকে সুসংবাদ শুনতে পাব ।সেই প্রার্থনা করছি ঠাকুরের কাছে। আমি বাবা মাকে রেখে ওর বাসায় দুদিন থাকবো সেই উপায় নেই ,কারণ বাবা-মা সবেমাত্র চোখে অপারেশন করেছেন।
মা এখন আগুনের কাছে গিয়ে রান্না করতে পারবে না। এনিয়ে মনটা অনেক খারাপ। আমার অসুস্থতার কথা তো ভুলে গেছি। চারপাশের মানুষ গুলোর কথা ভেবে মনটা একদম ভেঙে যাচ্ছে।
![]() | ![]() |
|---|
বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে ওর কাকি শাশুড়ি , ননদ ও দেবর এসেছে শুনে খুব ভালো লাগলো ।অন্তত দুটো দিন বোনটা বিশ্রাম পাবে । ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অপারেশন দিন নির্ধারণ করা হলো ।অপারেশনের দিন মেয়ে,বাবা- মাকে নিয়ে সকাল বেলা বোনের বাসায় চলে গেলাম ।
ওদেরকে বাসায় রেখে বোনের বর ও আমি বোনকে নিয়ে হসপিটালে গেলাম । সকাল ১০ টায় বোনকে ভর্তি করানো হয়। কেবিন পেতে কিছু সময় লেগেছিল । অপারেশন পূর্বে কিছু পরীক্ষা করলেন। আমাদের কেবিন দেয়া হলে,বোনকে নিয়ে কেবিনে চলে আসি।
অপারেশন এর সময় দিল দুপুর ২টা। এর পূর্বে কোন খাবার এমনকি জল টুকু খেতে পারবেনা। কর্তব্যরত সেবিকা হাতে স্যালাইন লাগিয়ে দিলেন। দুপুর ২ টায় বোনকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হলো। অপেক্ষা করছি আর ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি । হাসপাতালে আসলে বোঝা যায় কত মানুষের কত সমস্যা আছে। সৃষ্টিকর্তা সবাইকে ভালো রাখুক এবং সুস্থ রাখুক।।
সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় এবারের মতো বোনটা আমার বেঁচে গেল। ডাক্তারকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারি না। সৃষ্টিকর্তা ডাক্তারের মাধ্যমে রোগীদের বাঁচিয়ে দেন। বোনটা অনেক মোটা হয়ে গেছে আর ওর পিত্তথলিতে চারটি নয় সাতটি পাথর হয়েছিল ।পাথরে আকৃতি অনেকটাই বড় ছিল, যার জন্য পিত্তথলি পাকস্থলীর ভিতরে ঢুকে গিয়েছিল। অপারেশন করতে ১ঘন্টা সময় লেগেছিল।
![]() |
|---|
অপারেশন শেষে ডাক্তার সাহেব আমাদের ডাকলেন , তিনি আমাদেরকে বলল তিনি যত অপারেশন করিয়েছে এইরকম রোগী খুব কম পেয়েছেন । বোনের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির জন্য ভবিষ্যতে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে ।এখন থেকে আমাদের সচেতন হতে হবে।
রাত ৯ টায় বোনকে আমাদের কাছে কেবিনে দেয়া হলো ।ছোট একটি অপারেশন হলেও এখন বোনকে অনেক সাবধানে চলতে হবে । ওর জন্য সকলে দোয়া করবেন। আজ এখানে বিদায় নিচ্ছি। নিজেকে ভালোবাসুক, সুস্থ থাকুন।









Congratulations! Your post has been upvoted from sc-07 account.
আমার এই পোস্টটি সমর্থন দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ,ম্যাম @wirngo