বাবার (শ্বশুর মশাইয়ের) জন্মদিন( শেষ পর্ব)
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আবারও চলে এসেছি আপনাদের সাথে আমার কত পোস্ট এর বাকি অংশটুকু শেয়ার করার জন্য। আমি আমার গত পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম আমার শ্বশুর মশাই এর জন্মদিনের কিছু অংশ। তবে একটি পোস্ট এর মাধ্যমে সমস্তটা শেয়ার করা সম্ভব হয়নি। আগের পোস্টে আমি জন্মদিনের বিভিন্ন রান্নাবান্নার কথা বলেছিলাম।
রান্নাবান্না শেষ হয়ে গেলে আমি বাবার জন্য একটা কাঁসার থালায় ভাত এবং সমস্ত ভাজা দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর মা বিভিন্ন বাটিতে করে ডাল, মটন, চাটনি ইত্যাদি দিচ্ছিল। তখনো মিষ্টি এবং দই কেনা বাকি ছিল। তাই আমি আমার বরকে মিষ্টির দোকানে পাঠাই। মিষ্টির দোকান আমাদের বাড়ির কাছেই তাই যেতে বেশি সময় লাগেনি। সেখান থেকে এক হাঁড়ি দই আর পাঁচ রকমের মিষ্টি কিনে এনেছিল। আমি সেগুলো একটা প্লেটে সাজিয়ে দিয়েছিলাম।
আমার খুব ইচ্ছে ছিল বাবা যাতে একটা পাঞ্জাবি পরে। তবে ছেলেদের এই পাঞ্জাবী পড়ার বিষয়ে যে এত বেশি excuse থাকে তা আমার বিয়ের আগে জানা ছিল না। আমার বরকেও অনেক কিছু বুঝিয়ে, অনেক ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করে তারপর একটা পাঞ্জাবি পরানো যায়। কিন্তু বিয়ের আগে পাঞ্জাবী করতে অনেক ভালবাসত। বিয়ের পরে কেন ভালোবাসেনা তা আমি বলতে পারব না। নাকি বিয়ের আগে থেকেই পছন্দ করত না শুধুমাত্র আমাকে impress করার জন্য পরত তাও বলতে পারব না। যাইহোক, বাবাকে পাঞ্জাবি পরানোর প্রস্তাব দিতেই, আমার বর এক বাক্যে বলে উঠলো, "বাবা কোনো মতেই পাঞ্জাবি পরবেনা।" আমিও ছেড়ে দেবার পাত্রী নই। বরের সাথে বাজি লড়লাম যে বাবাকে আমি পাঞ্জাবি পরার জন্য রাজি করবোই। অন্যদিকে আমার বর বলল যদি আমি এই কাজ করতে পারি তাহলে সে নাকি আমাকে একটা গিফ্ট দেবে, কারণ সে জানে যে বাবা কোনমতেই রাজি হবে না।
সত্যিই কাজটা এতটা সহজ ছিল না। বাবাকে অনেকবার রিকুয়েস্ট করলাম পরার জন্য কিন্তু বাবা তো কোনমতেই পরতে চায় না। শেষমেষ দেখলাম ওনাকেও ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করা দরকার, নইলে কাজ হাসিল হবে না। অতঃপর বলে বসলাম, "তুমি যদি পাঞ্জাবি না পরো তাহলে বুঝবো তুমি আমাকে একটুও ভালোবাসো না।" ব্যস্ তাতেই কাজ হয়ে গেল। স্নান করে এসে নিজেই দেখলাম আলমারি থেকে একটা পাঞ্জাবী বের করে পরলো। শুধু একটা শর্ত রাখল যে পাঞ্জাবিটা পড়ে শুধু একটুখানি বসবে। তারপর খুলে রেখে খাবে। তাতে আমি রাজি হয়ে গেছিলাম কারণ পাঞ্জাবি করে খেতে একটু অস্বস্তি বোধ করছিল।
এরপর একটা আসন পেতে দিলাম। আর সমস্ত খাবারগুলো সুন্দর করে সাজিয়ে দিলাম। তারপর বাবা এসে বসলো। কয়েকটা ফটো তুললাম। মুখে প্রকাশ না করলেও অনেকটা খুশি হয়েছিল সেটা চোখমুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। যদিও সেই সময় আমরা কোন গিফ্ট দিইনি। তবে বিকেল বেলায় আমি আর আমার বর বেরিয়ে বাবার জন্য একটা জামা আর একটা হাত ঘড়ি কিনে এনেছিলাম। সেগুলো পেয়ে মানুষটা খুব খুশি হয়েছে। আসলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে এগুলো নিজে থেকে আর করা হয়ে ওঠে না তাই যখন কেউ হঠাৎ করেই তাদের জন্য এগুলো করে তারা সত্যিই খুব খুশি হয়।
ভগবান যেন ওনার মঙ্গল করেন এবং আগামী অনেক বছর যেন আমরা ওনার জন্মদিন এই ভাবেই উদযাপন করতে পারি। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।



0.00 SBD,
0.11 STEEM,
0.11 SP