দ্বিতীয় আইবুড়ো ভাতের দ্বিতীয় তথা শেষ পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা,
আজকে আবারো চলে এসেছি আপনাদের সাথে আমার গত পোষ্টের বাকি পর্ব টুকু শেয়ার করার জন্য। আমি আমার আগে পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম আমার দ্বিতীয় আইবুড়ো ভাতের কিছু গল্প। আমাদের হিন্দু বিয়ের পূর্বে ছেলে এবং মেয়ে উভয়কেই তার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবরা নিমন্ত্রণ করে খাওয়ায়। আইবুড়ো অবস্থায় যেহেতু এই নিমন্ত্রণ খাওয়া হয় তাই এটা কে আইবুড়ো ভাত বলা হয়। আগের পর্বে তো আমি জানিয়েছিলাম যে আমার দ্বিতীয় আইবুড়ো ভাত ছিল আমার এক ছোটবেলার বান্ধবীর বাড়িতে। সেখানে কী কী আয়োজন করেছিল এবং বান্ধবী এবং বান্ধবীর মা মিলে আমার জন্য কত কিছু রান্না করেছিল সেই সমস্ত কিছু আমি আপনাদের সাথে আগেই শেয়ার করেছি। তবে একটি পোস্টের মধ্যে যেহেতু আমি সমস্তটা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারিনি, তাই আজ আমি আপনাদের বাকি পর্ব টুকু শেয়ার করব।
সুন্দর করে সমস্ত খাবার টেবিলে সাজিয়ে দেওয়ার পর আমাকে বসতে বলা হয়। তারপর কাকিমা মানে বান্ধবীর মা আমাকে আশীর্বাদ করে। মাথায় ধান দূর্বা দিয়ে, প্রদীপের তাপ মাথায় ছুঁইয়ে আমাকে বরণ করে। যেহেতু অনেক ছোটবেলা থেকেই ওদের সাথে আমাদের পরিচয় তাই, আমার বিয়ে উপলক্ষ্যে ওরাও খুবই excited ছিল। আমি সেই দিনই বিয়ের কার্ড সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলাম। আশীর্বাদ পর্ব শেষ হলে আমি কার্ড দিয়ে বাড়ির সকলকে নিমন্ত্রণ করে এসেছিলাম। কাকিমা আমাকে শুধু যে এত সুন্দর সুন্দর রান্না করে খাইয়ে ছিল তা নয় তার পাশাপাশি আমাকে একটা লাল রংয়ের কুর্তিও গিফ্ট করেছিল। সেটা আমার খুব পছন্দও হয়েছিল।
এরপর আমার বান্ধবীও আমাকে ধান দুর্বা মাথায় দিয়ে আশীর্বাদ করেছিল। এই বান্ধবীর বিয়ে হয় দুই বছর আগে। নিজের পাড়াতে আমার কোন বান্ধবী নেই। মানে সমবয়সী অনেকেই থাকলেও তাদের সাথে আমার Vibes না মেলাই সেই ভাবে কারো সাথে কোনদিনও বন্ধুত্ব হয়ে ওঠেনি। যদিও সকলের সাথেই কথা বলি। তাই বাড়ির কাছাকাছি পছন্দের বান্ধবী বলতে এই বান্ধবীটাই ছিল। ওর বিয়ের সময়ও আমি খুব excited ছিলাম এবং অনেক আনন্দ করেছিলাম। তবে তার পাশাপাশি বান্ধবী শ্বশুর বাড়ি চলে গেলে আর সচরাচর দেখা হবে না, এইভেবে কেঁদে ভাসিয়ে ছিলাম। বলা চলে যে ওর থেকে আমিই বেশি কেঁদে ছিলাম। যাইহোক, সেই সমস্ত কিছু মনে পড়ছিল। দুই বছরের ব্যবধানে আমিও আজ একই situation এর সম্মুখীন হতে চলেছিলাম। তাই একটা আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
*এবার আসি খাওয়া দাওয়ার পালায়। সত্যি কথা বলতে গেলে আমি একবারে বসে এত খাবার কোনদিনই খেতে পারি না। আর সচরাচর যেমন খাওয়া হয় তার থেকে অনেক বেশি খাবার সেখানে ছিল। অন্যদিকে অনেক কাকুতি মিনতি করার পরেও ওরা কোনো মতেই খাবার কমাতে রাজি ছিল না। এ যেন এক অত্যাচার বলে মনে হচ্ছিল। যদিও ওরাও অনেক ভালবেসে রান্না করে খেতে দিয়েছিল, তাই ওরাও চাইছিল যাতে সব খাবারটা আমি খাই। তাই আমি বলেছিলাম যে তখন অল্প খাবার খাব আবার কয়েক ঘন্টা ওদের বাড়িতে থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় বাকি খাবারটা খেয়ে যাব। তবে প্রথমবার খাওয়ার পর যদিও আমি দুই ঘন্টা ওদের বাড়িতে ছিলাম তবে সেই দুই ঘন্টার মধ্যে আবার খিদে পায়নি। কিন্তু যেহেতু কথা দিয়েছিলাম খেয়ে যাব তাই অগত্যা কষ্ট করে হলেও খেতে হয়েছিল। এত আদর করে নিয়ন্ত্রণ করে ভালোবেসে খাওয়ালেও প্রচন্ড বেশি খাওয়া হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে বড্ড অস্বস্তি হচ্ছিল। আর মনে হচ্ছিল এর থেকে তো নিমন্ত্রণ না করলেই ভালো হতো। যদিও সেটা মজার ছলেই ভেবেছিলাম। আর আইবুড়োভাতে মাছের মাথা দেওয়ার একটা চাল রয়েছে। তবে মাঝের মাথা আমি একেবারেই পছন্দ করি না। তবুও সেদিন সেটা খেতে হয়েছিল। *

এইভাবেই দিনটা কেটেছিল। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোন লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।



Ese look está increíble. Me encanta cómo combinaste los colores, muy bien logrado.