"আজকের বর্ষনমুখর দিনটা যেভাবে কাটালাম।"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আজ সকালে যখন আমার ঘুম ভাঙলো বাইরে তখন মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে। ঘড়িতে তখন সাড়ে সাতটা বেজেছিলো ঠিকই, তবে বাইরের আবহাওয়া দেখে মনে হচ্ছিলো যেন, সবেমাত্র ভোর হয়েছে।
ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন আমি ছাদে ফুল তুলতে যাই ঠিকই, তবে আজ যে পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছিলো তাতে ছাদে গিয়ে ফুল তোলার উপায় ছিলো না। তাই ভাবলাম আগে রান্নার কাজটাই সেরে নিই। আজ যে পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছিলো, তাতে আজকে খিচুড়ি ছাড়া অন্য কিছু রান্নার কথা ভাবতেই পারলাম না।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
তবে শুভ অফিসে খিচুড়ি নিয়ে যাবে কিনা সেটাই ভাবছিলাম। শুভকে জিজ্ঞাসা করতে রাজি হয়ে গেলো। তাই আর কিছু না ভেবে খিচুড়ি বসিয়ে দিলাম। আর তার সাথে বেগুনি করার জন্য সবকিছু তৈরি করে নিলাম। প্রথমে বেগুন গুলো কেটে রাখলাম, তারপর জল আর প্রয়োজনীয় সব মশলা দিয়ে বেসন গুলে রাখলাম।
এর মাঝেই শুভ উঠে ফ্রেশ হতে চলে গিয়েছিলো। তবে বৃষ্টি কমছিলো না দেখে আমি ঠাকুর ঘরের কাজগুলো শেষ করে নিলেও, ফুল তখনও তুলতে পারিনি। এর মধ্যেই পাশের বাড়ির জেঠিমা ডাকলো। আসলে জেঠিমাদের বাড়ির সামনে অনেকটা জল জমে গিয়েছিলো। তাই আমাদের গলি দিয়ে কিছু জিনিস নিয়ে বেরোবেন, তাই শুভ কখন বেরোবে সেটা জিজ্ঞাসা করার জন্যই ডেকেছিলো।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
ভোরের দিকে বৃষ্টি হচ্ছিলো বুঝতে পেরেছিলাম। তবে কখন থেকে শুরু হয়েছে সেটা আন্দাজ করতে পারিনি। তাই রাস্তায় যে এতো জল হয়ে গিয়েছে, সেটা ভাবতেও পারিনি। শুভ বেরোনোর সময় বৃষ্টি কিছুটা কমেছিলো, তবে একেবারে বন্ধ হয়নি।
তাই শুভর পিছন পিছন আমিও একটু গলির দিকে এগিয়ে গিয়েছিলাম। দেখলাম আমাদের গলির ভিতরে বেশ কিছুটা জল চলে এসেছে। আর রাস্তায় তো পুরোই জল ভর্তি হয়ে গিয়েছিলো।
আপনারা জানলে অবাক হবেন এখনো পর্যন্ত রাস্তার জল নামেনি। আর আজ আবার শুভর বন্ধু রাজাদের বাড়ির ওই পাশটা পুরো জলে ভর্তি হয়ে গেছে। রাজাদের ঘরে এখনও জল রয়েছে। আবার শুনছি আগামীকালও নাকি এমন প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনাই রয়েছে। জানিনা এই রকম ভাবে আর কতদিন চলবে।
![]()
|
|---|
তবে এই রকম বৃষ্টিতে বাইরে বেরোনো যতখানি কষ্টকর, ততটাই সমস্যা হয় যদি ঘরে জল জমে যায়। যাইহোক এরপর ঘরে ফিরে প্রথমে আমি আমাদের কমিউনিটির কাজ সম্পন্ন করলাম। তারপর একটু ব্রেকফাস্ট করে নিয়ে ঘরের বাকি কাজ সম্পন্ন করে, ফুল তুললাম।
তারপর স্নান সেরে পূজা দিতে উপরে গেলাম। পুজো সম্পন্ন করার পর নিচে এসে আমি আবার নিজের জন্য কয়েকটা বেগুনি ভেজে, তারপর লাঞ্চ করতে বসলাম।
![]()
|
|---|
সকালে বেগুনি ভেজে রাখলে দুপুরবেলায় ঠান্ডা হয়ে যেতো, আর খেতে ততটাও ভালো লাগতো না। শুভ অফিসে নিয়ে যাবে, তাই বাধ্য হয়ে সকালেই ভেজে দিতে হয়েছে। তবে আমার গুলো দুপুরেই ভেজে নিয়েছিলাম।
খাওয়া-দাওয়া সম্পন্ন করে বেশ কিছুক্ষণ টিভি দেখলাম। তারপর শুয়ে পড়লাম। আবার বৃষ্টি শুরু হলো একটু বাদেই। আজ শাশুড়ি মার ফেরার কথা ছিলো, তবে বৃষ্টির যা অবস্থা তাতে ট্রেন অনেকখানি লেট ছিলো। সেই কারণে বীরভূম থেকে রওনা দিলেও, বাড়ি পর্যন্ত এসে পৌঁছাননি। কল্যাণীর মামা বাড়িতে রয়েছেন, হয়তো আগামী কাল বা পরশুদিন তিনি বাড়িতে আসতে পারেন।
সন্ধ্যার দিকে শুভ বাড়ি আসার সময় একটা দোকান থেকে স্টিম মোমো নিয়ে এসেছে। সত্যি কথা বলতে কয়েকদিন যাবৎ মোমো খেতে ইচ্ছে করছিলো এবং সেকথা আমি পরশুদিন ওকে বলেছিলাম। আমাদের এখানে একটা দোকানের মোমো খুবই টেস্টি হয়। দোকানটা গতকাল খোলা ছিলো না। তবে আজ খোলা ছিলো বলে, ওখান থেকে মোমো নিয়ে এসেছে।
![]()
|
|---|
ও ভালোভাবে ফ্রেশ হয়ে নেওয়ার পর আমরা একসাথে বসে মোমো খেলাম। আসলে বাইরের সব নোংরা জল পেরিয়ে বাড়িতে এসেছে, তাই আগে ফ্রেশ হতে গিয়েছিলো। মোমো খাওয়ার পর দুজনের কারোরই খুব একটা খিদে ছিলো না ঠিকই, তাই রাতের দিকে শুধু চারটে রুটি করেছিলাম।
তার মধ্যেও দুটো রুটি রয়ে গেছে। আমি আর শুভ একটা একটা রুটি খেয়ে ডিনার কমপ্লিট করেছি। এই মুহূর্তেও বাইরে টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে। জানি না আজকে ভোর থেকে আবার মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হবে কিনা।
যাইহোক এইরকম ভাবেই কেটেছে আজকের দিনটা। তবে রাস্তায় যে পরিমাণে জল জমেছে এবং আগামীকাল যদি একই রকম বৃষ্টি হয়, তাহলে রাস্তায় আদেও কতখানি চলাচল করা যাবে, সেটাই বুঝতে পারছি না।
যাইহোক আশাকরি আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে। আগামী দিনগুলো ভালো কাটুক এই প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।
TEAM 5








