"কয়েকদিন বাদে বোনেদের সাথে একটা সুন্দর দিন কাটানোর প্ল্যান হলো।"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরছি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের প্রত্যেকের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
আমার সারাটা দিন তেমন ভালো না কাটলেও, কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনার কারণে মনটা বেশ ভালো হয়ে গেছে। অবশ্যই কারণটা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো বলেই, রাতের সমস্ত কাজ সেরে নিয়ে পোস্ট লিখতে বসলাম।
গত কয়েক দিনের পোস্ট যারা পড়েছেন, তারা জানেন শাশুড়ি মা বাড়িতে না থাকার কারণে অনেকদিন যাবত সারাদিন বাড়িতে একাই থাকা হয়। অন্তত সপ্তাহে ছয় দিন তো বটেই, কারণ যে ছয় দিন শুভর অফিস থাকে, সে কদিন আমাকে একাই থাকতে হয়।
রবিবার দিনটা নামেই শুভর অফিস ছুটি, কিন্তু বন্ধুদের সাথে আড্ডাতেই তার দিন পার হয়ে যায়। তবুও দুপুরের খাবারটা সেদিন একসাথে খাওয়া হয় এই আর কি।
যাইহোক আজ আমার মাসির মেয়ে ফোন করেছিলো। প্রায় এক বছরের বেশি হয়ে গেছে ওদের বাড়িতে যাওয়া হয় না। সেই ওর মেয়ের অন্নপ্রাশনের দিন গিয়েছিলাম। তাই বেশ অভিমান করছে। তবে মাঝে যে সময়টা শ্বশুর মশাইকে নিয়ে কাটিয়েছিলাম, সেটা সম্পর্কে ও জানে। যে কারণে রাগ করেনি।
![]()
|
|---|
অনেকদিন ধরেই ওদের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলছে। তবে আর কিছুতেই সময় হয়ে উঠছে না। তবে আজ ফোন করে রবিবার যাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ করলো এবং এবার নাকি সে কোনো বাধাই শুনবে না, এমন মনস্থির করেই ফোন করেছে। কিন্তু তবুও এই রবিবারে যাওয়ার জন্য রাজি হলাম না।
আসলেই রবিবার আমাদের একাদশী রয়েছে। আপনারা হয়তো জানেন, আমি আগে থেকেই একাদশী করতাম। আর শ্বশুর মশাই মারা যাওয়ার পর থেকে শুভও আগামী একটা বছর একাদশী করা শুরু করেছে। তাই রবিবারে অন্তত কোথাও যাওয়া সম্ভব হবে না।
তবে বোন কোনো বাধাই শুনলো না। এই রবিবার যেতে পারবো না শুনেই, পরের রবিবারের কথা বললো। অবশ্য শনিবারের কথাই বলছিলো, কারণ ঐদিন ১৫ই আগস্ট। তবে শনিবার দিন ওরা নিরামিষ খায়। তাই আবার সেটা বদলে ওরা রবিবারেই যাওয়ার কথা বললো।
প্রসঙ্গত বলি শনিবারে শুভর অফিসের এক কলিগের বাড়িতে নিমন্ত্রণ রয়েছে। সেখানে শুভকে যেতেই হবে। তাই শনিবারে প্ল্যান করলেও শুভ যেতে পারতো না। তাই রবিবারের দিনটাই ধার্য করেছে। আর শুধু আমাদেরকেই যে নিমন্ত্রণ করেছে এমনটা নয়, আমরা সকলে মিলে যাতে এক জায়গায় হতে পারি সেই প্ল্যান করেছে। সকলে অর্থাৎ সব বোনেদের কথা বলছি।
![]()
|
|---|
বহুদিন হয়ে গেছে আমরা সকলে এক জায়গায় হতে পারিনি। আমার মাসির ছোট মেয়ে চাকরি সুত্রে আলিপুরদুয়ারে থাকে। ও নিজেও ওই সময় ছুটিতে আসছে, জেনে আরও বেশি খুশি হলাম। তাই এই রবিবারের বদলে পরের রবিবারে প্রোগ্রামটা রাখার জন্য, ওর সাথেও দেখা হবে অনেকদিন পরে।
আমি, আমার মাসির মেয়ে, ও মামার মেয়ে তিনজন কনফারেন্সে বেশ কিছুক্ষণ কথা বললাম। আর রবিবারের দিন নিয়ে অনেক প্ল্যানও হলো। যদিও জানিনা শেষ পর্যন্ত যাওয়া হবে কিনা, বা কোনো কারণে প্ল্যান ক্যান্সেল হবে কিনা। সত্যি কথা বলতে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর অভ্যাসটা আমাকে যেন আরও বেশি ঘরবন্দি করে দিচ্ছে।
মাঝেমধ্যে খুব ইচ্ছে করে বেরিয়ে পড়তে। আবার মাঝে মধ্যে এতো বেশি অলসতা কাজ করে যে, একেবারেই বেড়োতে ইচ্ছা করে না। তবে বোন এবার যেভাবে ধরেছে তাতে মনে হচ্ছে এবার আর না গিয়ে উপায় নেই।
সত্যি কথা বলতে এটা ভেবে ভালো লাগছে অনেকদিন বাদে সব বোনেরা এক জায়গায় হয়ে, একটা সুন্দর দিন কাটাতে পারবো। অনেকদিন বাদে সকলের সাথে দেখা হবে এই ভাবনাটাতেই মনটা বেশ খুশি হয়ে গেলো। এবার অপেক্ষা শুধু সেই দিনের।
যদি সত্যিই যাওয়া হয় সেই দিনের মুহূর্ত অবশ্যই শেয়ার করবো আপনাদের সাথে। তবে অনেকদিন বাদে বোনেদের সাথে প্রাণ খুলে অনেকক্ষণ কথা বললাম এবং একসঙ্গে দেখা হওয়ার যে প্ল্যান হলো, সেটা নিয়ে বেশ আনন্দ কাজ করছে মনের মধ্যে। তবে দুঃখের বিষয় দিদি যেতে পারবে না।
![]()
|
|---|
দিদি যদি যেতে পারতো, তাহলে তিতলি তাতান ওরাও যেতে পারতো। সব বাচ্চাগুলো এক জায়গায় হলে, ওরাও আনন্দ করতে পারতো। তবে দিদির ডিউটি থাকার কারণে ওর পক্ষে যাওয়া সম্ভব হবে না। যাইহোক ওকে নিয়ে নিশ্চয়ই পরে কখনো আরও একটা প্রোগ্রাম করা যাবে। আপাতত এই দিন যারা এক জায়গায় হবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তারা এক জায়গায় হতে পারবো কিনা সেটাই দেখার বিষয়।
জীবনে আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী কিছুই হয় না। কিন্তু তবুও আমরা অদ্ভুতভাবে জীবন নিয়েই কিছু না কিছু প্ল্যান করেই চলি। তার মধ্যে কিছু সফল হয়, আর কিছু হয় না। তবে সেটা আমরা মেনে নিয়ে চলতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। কারণ আজ পর্যন্ত জীবনে বহু প্ল্যান সফল হয়নি, তার জন্য আফসোস আছে বটেই, কিন্তু জীবন থেমে থাকেনি। এটাই বোধহয় জীবনের আসল মানে।
যাইহোক ভালো থাকবেন আপনারা সকলে। আর জীবনকে মন খুলে উপভোগ করার সুযোগ পেলে, তা কোনো রকমেই হাতছাড়া করবেন না।
শুভরাত্রি।
![]() |
|---|




