"ঋষি খোলায় পৌঁছে আমার অনেকদিনের একট স্বপ্ন পূরণ হয়েছিলো""
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
"সিকিম ট্যুরে আমাদের শেষ গন্তব্য ছিলো, সিল্ক রুট হয়ে ঋষি খোলা", সেকথা আগের পোস্টেই আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। সিল্করুট থেকে ঋষি খোলার উদ্দেশ্যে আমাদের যাত্রাপথের গল্প যেখানে এসে থেমেছিলো, আজ তারপর থেকেই শুরু করছি।
আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম একটা দোকানের সামনে আমাদের গাড়িটা দাঁড়িয়ে ছিলো এবং ড্রাইভার দাদার সাথে কিছু ছেলে কথা বলার পর আমাদের জানিয়েছিলো, আমাদের লাগেজ গুলো রুম পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য ওদেরকে আলাদা টাকা দিতে হবে।
![]()
|
|---|
প্রথমত রাস্তার পাশের ওই ছোট্ট দোকানটিতে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারছিলাম না, এখানে হোমস্টে কোথায়? আর দ্বিতীয়ত টাকা কেন দিতে হবে সেটাও স্পষ্ট ছিলো না। তবে শেষমেষ কথাবার্তা হয়ে যাওয়ার পর যখন আমাদের লাগেজ গুলো নিয়ে, তারা দোকানের পাশ থেকে সরু একটা রাস্তা দিয়ে নিচের দিকে নামতে থাকলো, বুঝলাম আমাদেরকেও ওদেরকে অনুসরণ করতে হবে।
![]()
|
|---|
তবে সত্যিই বুঝিনি এই ছোট্ট গলি পথ দিয়ে নিচের দিকে নেমে আমার জীবনের অসম্ভব সুন্দর একটা স্মৃতির কাছে যেতে চলেছি। এটাকে আপনারা স্বপ্ন পূরণও বলতে পারেন। মাটি কেটে তৈরি করা ছোট্ট ছোট্ট সিঁড়ি দিয়ে নিচের দিকে নামতে থাকলাম সকলেই। সকলের মনের প্রশ্ন কোথায় যাচ্ছি? তবে উত্তর অজানা।
পর্যটকদের সুবিধার জন্য সিঁড়িগুলোর পাশে আবার ধরার জায়গা করে দেওয়া আছে। এরপর নামতে শুরু করলাম আমরা ওনাদের পিছু পিছু। খানিকটা নেমে আসার পর দূরে একটা বাড়ির মত দেখতে পেলাম। তখন বিষয়টা পরিষ্কার হলো। এই জায়গাতেই হয়তো রাতে আমরা থাকতে চলেছি।
![]()
|
|---|
তবে সত্যি কথা বলতে রাস্তার উপরে দাঁড়িয়ে এতটুকুও বোঝার উপায় নেই যে, এতটা নিচে মানুষের থাকার জন্য এতো সুন্দর জায়গা তৈরি করা আছে। এই হোসস্টের নাম ছিলো - "Hakuna Matata Riverie Homestay"।
আরও খানিকটা এগিয়ে গিয়ে ভুট্টা গাছ চোখে পড়লো। হয়তো এই হোমস্টেতে যারা থাকেন, তারাই চাষ করেছেন। যখন বাড়িটির সামনে পৌঁছালাম, দেখলাম আমরা যাদের অনুসরণ করে আসছিলাম, তারা আরও কিছুটা নেমে যাচ্ছেন।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
সুতরাং আমরাও আর দাঁড়িয়ে না থেকে, ওদেরকে অনুসরণ করলাম। সেই সময় কানে ভেসে এলো জল বয়ে যাওয়ার শব্দ। বুঝতে পারছিলাম না কোথায় যাচ্ছি। তবে সিঁড়ি থেকে আরেকটু নেমে সামনে যা দেখলাম, তা একেবারে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিলো।
![]()
|
|---|
জলের যে আওয়াজ পাচ্ছিলাম, সেটা অন্য কোথাও থেকে না। সামনে বয়ে চলা একটা পাহাড়ি নদীর শব্দ। আর এই নদীটি পার করার জন্য ছোট্ট একটা বাঁশের সাঁকো তৈরি করা আছে। সেটা পার করেই আমাদেরকে অপর প্রান্তে যেতে হবে।
![]()
|
|---|
সাঁতার না জানার কারণে সাঁকো পার হতে আমার ছোটো থেকেই ভয় করে। তবে এদিন ভয়ের থেকেও বেশি ভালো লাগা কাজ করছিলো। তবে যখন দু পা হাঁটলাম, তারপর থেকে আবার ভয় লাগছিলো। তবে সকলে এগিয়ে চলছিলো দেখে, আমিও পার হয়ে গেলাম।
নদীটির ওপর প্রান্তে ছিলো আমাদের থাকার জায়গা। ছোটো ছোটো অনেকগুলো ঘর তৈরি করা আছে, যেগুলো দূর থেকে দেখতে বেশ ভালো লাগছিলো। শুধু তাই নয় চারিপাশে কি অসম্ভব সুন্দর পরিবেশ, তা ছবির মাধ্যমেও কতটা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারবে জানিনা।
![]()
|
|---|
দূর থেকে যখন উপরের তিনটে ঘর দেখলাম, মনে মনে ইচ্ছে হচ্ছিলো ওই ঘরগুলোর একটাতেও যদি আমাদের থাকতে দেয়, খুব ভালো হয়। এমন ঘরে থাকার শখ যে বহুদিনের। সারা জীবন শুধু সিনেমার পর্দায় বা রিলিসে এমন দৃশ্য দেখেছি। সেটাই সামনাসামনি দেখছিলাম যেন বিশ্বাসই হচ্ছিলো না। তারপর যদি এরকম একটা কটেজে থাকতে পারি। তাহলে সেটা নিঃসন্দেহে স্বপ্ন পূরণ।
![]()
|
|---|
**কথাটা মনে মনে ভাবছিলাম। তবে সেটা যে বাস্তবে হবে সত্যিই ভাবি নি। দেখলাম আমাদের লাগেজ গুলো নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে দাদাগুলো একেবারে উপরের দিকে উঠছে। তবে সেই ওঠাটা যে একেবারে উপরের ওই তিনটে কটেজের সামনে গিয়ে শেষ হবে, সেটা ভাবি নি। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে দুপাশে অনেকগুলো ঘর আছে, ভাবছিলাম হয়তো তাদের মধ্যে কোনো একটাতে থাকতে দেবে।।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
তবে সবগুলো ঘর পেরিয়ে যখন একেবারে উপরে ওঠার সিঁড়িতে ওনরা পা রাখলেন, সেই মুহূর্ত থেকেই যেন আমার স্বপ্ন পূরণ শুরু হলো। বুঝলাম এরপর অন্য কোথাও নয়, আমার পছন্দের ওই তিনটে কটেজের জায়গাতে গিয়েই থামবে ওনারা। তেমনটাই হলো জানেন, তিনটে রুমের মধ্যে থেকে দুটো আমাদের জন্য রাখা ছিলো।
লাগেজ গুলো নামিয়ে দিয়ে ওনার আমাদের তাড়াতাড়ি খেতে আসতে বললেন, কারণ যেহেতু আমাদের লাঞ্চ এখানে করার কথা ছিলো, তাই শুধু আমাদের জন্যই আমরা অপেক্ষা করছিলেন। সেদিন দুপুরের খাবার খেতে খেতে আমাদের প্রায় বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে আসছিলো।
![]()
|
|---|
একবারে কটেজের সামনে থেকে যখন পিছন ফিরে দেখলাম, তখন বুঝলাম কেন লাগেজ এই পর্যন্ত আনার জন্য ওনরা আলাদা করে টাকা চেয়েছিলেন। কারণ আমাদের পক্ষে লাগেজ বয়ে অতো দূর থেকে নিচে নামা, আবার নদী পেরিয়ে এতটা উপরে তোলা অসম্ভব ছিলো।
সকালে আমরা স্নান সেরে বেরিয়েছিলাম। তাই স্নান করার আর কোনো প্রয়োজন ছিলো না। তবে ফ্রেশ হতেই হতো, কারণ এতোগুলো জায়গা ঘুরে তারপর এখানে এসে পৌঁছেছি। তাই লাগেজ আনবক্স করার আগে আমরা হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচে গিয়ে লাঞ্চ সেরে নিলাম।
![]()
|
|---|
ফোনে সেই মুহূর্তে একটুও চার্জ ছিলো না। তাই সকলেই রুমে ফোন চার্জে বসিয়ে খেতে গিয়েছিলাম, কারণ তারপর আমাদের প্ল্যান ছিলো বেশ কিছুক্ষণ নদীর পাড়ে বসা। তখন ছবি তোলার জন্য চার্জের প্রয়োজন। তাই লাঞ্চ করার সময়রার কোনো ছবি তোলা হয়নি। কারণ সকাল থেকে ফোনে ছবি তুলতে তুলতে চার্জ একেবারে শেষ হয়ে গিয়েছিলো।
![]()
|
|---|
দুপুরে আমাদের খাবারে ছিলো গরম ভাত, ডাল, আলু ভাজা, পাঁপড় ভাজা, ডিমের ঝোল, আর তার সাথে পাহাড়ের স্পেশাল আচার। যেটা সব জায়গাতেই আপনাকে দেবে। গরম ভাত দিয়ে জমিয়ে লাঞ্চ করে তারপর চলে গেলাম ঋষি নদীর পাড়ে। সেখানে কাটালাম এক অসম্ভব সুন্দর সন্ধ্যা।
যে সন্ধ্যার গল্প আমি আপনাদের সাথে আগামী পর্বে শেয়ার করবো। আপাতত এই পর্বে শেয়ার করা আমাদের শেষ গন্তব্যের জায়গাটি আপনাদের কেমন লাগলো, তা জানাতে ভুলবেন না।
ভালো থাকবেন সকলে।

















TEAM 5
Congratulations! Your post has been upvoted from sc-07 account.