ইচ্ছেপূর্তি!

আজকে অনেকের ঘরেই জন্মাষ্টমী পালিত হচ্ছে।
এখন যারা জানেন জন্মাষ্টমী কেনো পালিত হয়, তাদের বিষয় ভিন্ন, কিন্তু যারা জানেন না, তাদের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি, জন্মাষ্টমী শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষে পালিত হয়।
আজকের ইচ্ছেপূর্তির ইচ্ছেটা শুরু হয়েছিল কিছুদিন আগে, যেদিন আমার মাসতুতো কাজিন তালের বড়া খেতে খেতে আমাকে ফোন করেছিল।
সেদিন ভাবছিলাম, এমন অনেক খাবার রয়েছে যেগুলো আজ আর কেউ আমায় বানিয়ে দেবে না, আবার এমন অনেক খাবার রয়েছে নিজে তৈরি করতে পারলেও এখন আর একলা বসে সেগুলো খেতে ইচ্ছে করে না।
কখনও খেতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া মুখের সেই প্রশান্তিতে ভরা হাসি মনে পড়ে যায়, যেমন আমার দিদির মেয়ে আমার হাতে তৈরি বিরিয়ানির একনিষ্ঠ ভক্ত ছিল!
আজ এই লেখার সময় অতীত কালের প্রয়োগ করতে গিয়েও মনটা খারাপ লাগছে।
আরো কাছের সম্পর্ক রয়েছে, যেখানে আমি যা তৈরি করি সেটাই সুস্বাদু মনে হতো।
এখনো রক্তের সম্পর্কের বহির্ভূত কিছু মানুষ আজও রয়েছে যারা আমার তৈরি যেকোনো খাবার খুব তৃপ্তির সাথে খায়, কিন্তু যেহেতু তারা আমার সাথে থাকে না, তাই একলার জন্য অনেক কিছুই আজ আর তৈরি করা হয় না।
প্রত্যেক ঋতুর হাত ধরে প্রকৃতি কিছু ফল, সবজি ইত্যাদি আরো অনেককিছু মানব সমাজকে দিয়ে থাকে, এদের মধ্যে তাল হলো একটি যেটি দিয়ে একাধিক মিষ্টি তৈরি করা যায়, এবং এরমধ্যে তালের বড়া অন্যতম।
যেদিন থেকে আমার কাজিন তালের বড়া খেতে খেতে আমায় ফোন করেছিল, সেদিন থেকে ভাবছিলাম, এ বছর আমার আর তালের বড়া খাওয়া হবে না!
আর এই সমস্ত ঐতিহ্যবাহী খাবার এই প্রজন্ম বিশেষ তৈরি করতে চায় না, কারণ তালের পাল্প বের করা বেশ সময় সাপেক্ষ এবং ধৈর্য্যের কাজ।
আগে যেখানে গ্যাসের সুবিধা ছিলনা, তখন মানুষ উনুনে না জানি কতকিছু তৈরি করতো, শীতের একাধিক পিঠে থেকে এই সমস্ত তালের পিঠা ইত্যাদি।
এখন এত সুবিধা সত্ত্বেও মানুষ সবটাই বাজার থেকে কিনে নিয়ে আসে!
নারকেলের নাড়ু, তিলের নাড়ু, মুড়ির মোয়া, চিড়ের মোয়া সবটাই।

কয়েকদিন ধরেই, এই সমস্ত ভাবছিলাম, কারণ কাজিন এর বাড়িতে রান্নার মহিলা এই সমস্ত খাবার তৈরি করে দেন, আমার সেসবের বালাই নেই।
ঈশ্বর মনে বসবাস করে, এটি সত্যি বলেই হয়তো, সন্ধ্যে সাড়ে পাঁচটায় যেই না, মোবাইল ফোন চার্জে বসাতে উঠেছি, ঠিক সেই সময় নিচের মহিলা আমায় ফোন করলেন!
আমি আশা করিনি উনি প্রসাদ নিতে আমায় ডাকবেন।
অপারেশনের কারণে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে পারবেন না, তাই একটু নিচে নেমে প্রসাদ নিয়ে যাবার অনুরোধ করেছিলেন।

![]() | ![]() |
|---|
আমিও প্রায় সাথে সাথে নিচে নেমে প্রসাদ নিয়ে এসেছিলাম।
উপরে এসে যখন দুটি কাগজের প্লেটের উপরের প্লেট সরালাম, আমি শ্রী কৃষ্ণের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলেছিলাম।
ছবিতে দেখতে পাবেন হয়তো যারা চেনেন, তালের ক্ষীর আর তালের বড়া দুটোই ছিল প্রসাদে।
প্রসাদ পাওয়া এমনিতেই ভাগ্যের ব্যাপার, তার উপর ঈশ্বর যখন ইচ্ছেপূর্তি সেই প্রসাদের হাত ধরে পাঠান, সেটি তার আশীর্বাদ ছাড়া আর কি বা হতে পারে?
আজকে, মনে মনে ভাবলাম, সত্যি যার কেউ নেই তার ভগবান আছেন!
আর তিনি সদাই আমার মনের ইচ্ছে গুলোকে মনোযোগ দিতে শোনেন!
আজকে, তার একটি পূর্তি করে তিনি সেটি বুঝিয়ে দিয়েছেন।
তাদের বড়া অসাধারণ হয়েছিল কিন্তু দুর্দান্ত লেগেছে তালের ক্ষীর খেতে!
আমি ঈশ্বরকে বললাম, আমি কেনো একলা খাবো? তুমি তো আমার অন্তরেই রয়েছো, তাই তো এতদিনের মনের কথা বুঝে তার সমাধান করলে, তাই অন্তরে বসে তোমায় নিবেদিত প্রসাদ গ্রহণ করো।



