ক্ষণিকের সঙ্গী!

in Incredible India2 days ago

1000095257.jpg

সৎসঙ্গ প্রার্থনা

সত্যি বলতে কাজ করতে হবে করছি, কিন্তু যেই মুহুর্তে কাজের বাইরে একটু অবসর পাচ্ছি, আমার ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার কথা সারাক্ষণ মাথায় ঘুরছে!

খুব যে যোগাযোগ ছিল এমনটা নয়, যখন আমার দিদির মেয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেলো, তারপর আমার মামীকে দেখতে গিয়ে ভাইয়ের সাথে শেষ দেখা হয়েছিল!

শৈশব বড় গুরুত্বপুর্ন কাজেই সেই সময়ের মুহূর্তগুলো আজও সতেজ, তাই হয়তো আমার মানসিক পরিস্থিতি এই পর্যায়!

মঙ্গলবার রুবি হাসপাতালে দেখাতে যাওয়ার কথা, না বললেও আজকে বোনের সাথে কথা বলার সময় বুঝলাম, ডাক্তারের সাথে গুছিয়ে কথা বলতে পারে এমন কাউকে সঙ্গে চাইছে!

মুশকিল হলো, যতক্ষণ আগামীকাল রুবি হাসপাতাল থেকে ফোন না আসছে আর জানতে পারছি ঠিক কোন সময় ডাক্তার বসবেন, ততক্ষণ সঙ্গে যাবার কথা বলাও কঠিন!

কারণ, যদি রাত দশটায় ডাক্তার বসেন, তাহলে ফেরার সময় আমার ফ্ল্যাটে একলা ওই রাতে ফেরাটা সমস্যাজনক!

তাই, আজকে বোনকে বলেছি, দেখাযাক আগামীকাল সময় কখন পাওয়া যায় ডাক্তার দেখানোর! সেই অনুযায়ী নয়তো সিদ্ধান্ত নেবো, আমি যেতে পারবো কি না!

1000094991.jpg1000094998.jpg

বায়োপসি রিপোর্ট আমার মামাতো ভাইয়ের!

আসলে, এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলা, চিন্তা করা সবটাই এতটাই কঠিন, সেটা ফোনের অপর প্রান্তে থাকা বোনকে বুঝতে দিচ্ছি না, কিন্তু আমার ভিতরে যে ঝড় বয়ে যাচ্ছে, সেটা একমাত্র ভগবান জানেন!

আমার রান্না ঘরে নতুন অতিথি

একলা ঘরে সব সময় শুধু একটার পর একটা ঘটে যাওয়া অঘটনের কথা মাথায় আসছে।
আজকে সন্ধ্যে দেবো বলে, উঠে ডাইনিং রুমের লাইট জ্বালাতে গিয়ে নজরে পড়লো একটা ছোট্ট চড়ুই বসে আছে রান্না ঘরের জানালায়।

প্রথমে, বোঝার চেষ্টা করলাম কোথা থেকে ঘরে ঢুকেছে, বুঝলাম আমার দ্বিতীয় বেড রুমের জানালা দিয়ে, তাই জানালা বন্ধ করে দিলেও পুনরায় খুলে দিলাম, যদি হওয়ার পথ ধরে বেরোতে পারে!

ক্ষণিকের হলেও আজকে রাতে আমি একলা নেই, খানিক কথা বললাম পাখিটার সাথে, ভয় পেতে মানা করলাম!
মানুষদের এরা হয়তো সহজে বিশ্বাস করতে পারে না! তাই খানিক বিশ্বাস অর্জন করতে একটা বাটিতে জল, আর কিছু বিস্কুটের টুকরোর সাথে, কয়েক দানা চাল রাখতে রাখতে, সেই কবিতাটি শোনাচ্ছিলাম;

' বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই;
কুড়ে ঘরে থেকে করো শিল্পের বড়াই!'

জানিনা, বুঝেছে কিনা! তবে, সন্ধ্যার চা করতে গিয়ে দেখলাম, আমার ইন্ডাকশনের উপরের দেওয়ালে বসে ঝিমোচ্ছে!

কোনো রকমে চা করে, লাইট বন্ধ করে ইন্ডাকশন খানিক দূরে সরিয়ে রেখে এসেছি, যদি কোনো কারণে গরম থাকা অবস্থায় ইন্ডাকশন এর উপর পড়ে যায়!

একলা জীবনের এই ক্ষণিকের সঙ্গীকে পেয়ে মনটা কিছু সময়ের জন্য হলেও অন্যদিকে ঘোরাতে পেরেছি, এটাও আজকের একটি বাড়তি পাওনা।

আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ, সে কোনো না কোনো ভাবে আমাকে চিন্তামুক্ত করবার উপায় করে দেন।

1000095251.jpg

1000095259.jpg1000095255.jpg

1000095253.jpg

গতকাল, সৎসঙ্গ ছিল, আমার দাদার নতুন দোকানে, তার কিছু ছবি দেখে মনে মনে ভাবলাম, ব্যস্ততম সময়ের ফাঁকে কিছু সময় বের করে আমাদের হয়তো মন থেকে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করা উচিত।

তাই পরিশেষে, সৃষ্টিকর্তা সহ সেই সকল মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, যাদের হয়তো কখনও মনে আঘাত দিয়ে ফেলেছি।

1000095222.jpg

জীবনটা খুব ছোট, এই ছোট্ট জীবনে যতটুকু সম্ভব নিঃস্বার্থ হয়ে কিছু কাজ সম্পাদন করা এবং প্রয়োজনীয় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত, আসলে এই কাজগুলো করে নিজেদের মহান ভাবার কোনো কারণ নেই;

এটা একধরনের সুযোগ সৃষ্টিকর্তা আমাদের দিয়ে থাকেন, নিজেদের উন্নত করবার জন্য
বিষয়টি প্রথম অনুভব করেছিলাম এনজিও তে কাজ করবার সময়।

সময় কি ভীষণ ক্ষমতার অধিকারী, সেটি পরিস্থিতি বুঝিয়ে দেয়।
আজকের এই সঙ্গীকে ঈশ্বর আমার একাকীত্ব দুর করতে পাঠিয়েছেন, এরজন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।

1000010907.gif

1000010906.gif

Sort:  
 21 hours ago 

Your post is very emotional and touching. Brother's illness and the worries related to it are really a very difficult time, may God grant him health and courage to all of you. ❤️

The incident of the little bird coming to the kitchen was very beautiful the love with which you welcomed it by giving it water, biscuits and rice despite your loneliness shows your soft heart and beautiful nature maybe she really came to you from God at that time as a little joy and temporary companion.

TEAM 5

Congratulations! Your comment has been upvoted from sc-07 account.

1000093596.png

Curated by : @ sduttaskitchen

1000269768.jpg

 13 hours ago 

Much appreciated your support @steemcurator08

Loading...