জীবনের শেষ পাতায় কি লেখা?
![]() |
|---|
পুরোনো স্মৃতি, বর্তমান পরিস্থিতির অনেকখানি জুড়ে এমন অনেক ঘটনা, মানুষের অনৈতিক আচরণ,
ব্যবহার থাকে যেগুলো একই দিনে যদি মনে ভিড় করে;
তার সাথে যদি একই দিনে কিছু অপ্রিয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হয়,
তখন সত্যি মাথা ঠাণ্ডা রাখা দায় হয়ে পড়ে!
আজকে নিজের মানসিক অবস্থার কথা লিখছি মানে এই নয়, এমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আর কেউ কখনও যায় নি, কিংবা যাচ্ছে না!
তবে, এই বিষয়গুলো নিয়ে বিশেষ কেউ কথা বলে না, সকলেই সাধারণ আলোচনা, যেমন দিনলিপি, নয়তো ঘুরতে যাওয়া, আর নয়তো রান্না, কিংবা বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, খেলায় অংশগ্রহণ করেই কাটিয়ে দিচ্ছে!
সামাজিক উন্নয়ন, মানসিক বিস্তার, গঠনমূলক পর্যালোচনার মতন বিষয় এখানে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা পায় না!
তাই, সেই অর্থে লেখার উন্নত মান আমার নজরে বিশেষ পড়ে না, ছবির ঘনঘটা দেখতে পাওয়া গেলেও, লেখার গুরুত্ব হারাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুর অভাবে!
বেশিরভাগ মানুষ কিছু মানুষকে এড়িয়ে চলে, সেটা এরজন্য নয় যে, সেই মানুষটি ভীষণ ক্ষমতার অধিকারী, কিংবা ধরুন তার সামাজিক দিক থেকে নামডাক আছে, সেটা ভালোমন্দ উভয় ক্ষেত্রেই!
আসল কারণ হলো, কিছু মানুষকে এড়িয়ে চললেই নিজের পারিবারিক শিক্ষা, নিজের মর্যাদা অব্যাহত থাকে!
বিষয়টি খানিক উদাহরণের সাহায্যে তুলে ধরবার প্রয়াস করছি!
![]() | ![]() |
|---|
এখন বর্ষাকাল! কাজেই, এই ঋতুর সময় পথ চলাচলের সময় লক্ষ্য করে দেখবেন, রাস্তায় থাকা গর্তে যখন জল জমে, তখন যদি আপনি দেখেন দুর থেকে একটা গাড়ি আসছে,
আর ওই গাড়িটা আপনার ঐ জমাজলের গর্ত আপনার আগে পার করে যাবে, তাহলে আপনি কোনো একটা জায়গা বেছে দাড়িয়ে পড়বেন, কি তাই তো?
কেনো এমনটা আমরা করি? কারণ ও গর্তের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় জমে থাকা জল চতুর্দিকে ছিটকে পড়ে, তাই সেই সময় যদি আপনিও পাশে থাকেন, সেই অপরিচ্ছন্ন জলের ছিটে আপনার উপর এসে পড়বে, তাই খানিক এড়িয়ে গিয়ে নিজেকে ওই অপরিচ্ছন্নতার হাত থেকে বাঁচানোর প্রয়াস আমরা করে থাকি, কি তাই তো?
এখন গাড়ির চালক যদি মনে করেন, তার বড় গাড়ি আছে দেখে তাকে সম্মান দিতে গিয়ে কেউ কাজটি করছে, তাহলে সেই ভ্রান্ত ধারনা পোষন করবার জন্য তো আর কেউ দায়ী নয়!
ঠিক এরকম সমাজে কিছু মানুষ আছে, যারা নিজেদের সর্বের সর্বা ভাবার মতো ভ্রান্ত ধারনা পোষন করে রাখেন।
![]() | ![]() |
|---|
এই মুহুর্তে মনে হচ্ছে, সত্যি যদি দূরে কোথাও চলে যেতে পারতাম, যদি কোনো পরিচিত মুখ দেখতে না হতো, খুব ভালো লাগতো!
আসলে পরিচিত মুখের আড়ালের মুখোশ চিনে গেলেই, আমার মধ্যে একটা ভয়ংকর অস্বস্তি কাজ করে!
সব মানুষ কেবলমাত্র টাকার হিসেব দেখায়, টাকার গরম দেখায়, আরে সেই টাকার পরিবর্তে কি কি নিজেরা পেয়েছে, সেই হিসেব করেছেন কখনও?
বিবেকহীন, অমানুষদের ভিড়ে নিজেকে আর মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না!
জানিনা কতদিন আর নিজেকে এইভাবে শান্ত রাখতে পারবো!
কেনো মানুষ কি দিয়েছে মনে রাখে! কি পেয়েছে সেটা কি মনে রাখার বিষয় নয়?
আশ্চর্য লাগে সমস্ত মানুষের আচরণের পরিবর্তন সময়ের সাথে দেখতে দেখতে!
![]() | ![]() |
|---|
আর ঠিক সেই কারণেই বোধহয়, প্রবাদটি প্রচলিত, ' কাজের সময় কাজী, আর কাজ ফুরোলেই পাজি!'
মানুষের মতো এমন দ্বিচারিতা সমস্ত প্রাণীকূলে বিরল!
স্বার্থ, প্রয়োজন, লাভ, ব্যবহার ইত্যাদি ইত্যাদি রয়েছে সমস্ত যোগাযোগের পিছনের আসল কারণ!
ভালবাসা? সেখানেও রয়েছে লেন দেনের হিসেব, কতখানি পাওয়া যাবে, কতখানি কাজে আসবে, কতখানি ব্যবহার করা যাবে, তার উপরে অঙ্ক কষে তবেই ভাগ বাটোয়ারা করা হয়!
তারপর, সময়ের সাথে একটা মানুষ একঘেয়ে হয়ে গেলে, সঙ্গে আরেকটি অন্তরালে খুঁজে নাও!
সমসাময়িক ভাবে একাধিক চলুক, অসুবিধা কোথায়?
সেই আবার দ্বিচারিতা! গতকাল আমার একলা থাকা নিয়ে কাকিমার প্রশ্ন, কেনো আমি বিয়ে করছি না, কেনো কিছু ভাবছি না আর অনেক কিছু, মানুষের মুখের আড়ালের মুখোশ একবার চিনে ফেললে আর জেনেশুনে কে বেল তলায় যায়?
কোনো কিছু করার পিছনে যদি হিসেব থাকে, তাহলে সেটা আর যাইহোক, সেই সম্পর্কে ভালোবাসা নেই এটা আমি নিশ্চিত!
আত্মা দিয়ে তৈরি সম্পর্কে হিসেব থাকে না, সেখানে থাকে না কোনো লেন দেনের মধ্যে বৈশ্যমতা!
জানিনা, আসলে এই সমস্ত আমার একলার ভাবনা, নাকি আমার মত আর কেউ এইরকম ভাবে জীবনকে দেখে!
জীবনের শেষ পাতায় কার জন্য কি লেখা রয়েছে, সেটা কি বর্তমান সময়ের কর্ম ঠিক করে? আপনাদের কাছে আছে কি এর উত্তর?









Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟