আজকে সঞ্চিত বেশকিছু অভিজ্ঞতা!

জীবন থেকে আরো একটি দিন কমে গেলো বটে, তবে একটি দিন বেশিরভাগ সময় অঘোষিত ভাবে শিখিয়ে যায় একাধিক কাজ, শিখিয়ে দেয় নতুন করে বাঁচার উপায়!
তবে, একটাই শর্ত! আর সেটা হলো, নিজের সুবিধার জগত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে শেখার আগ্রহ নিয়ে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রয়োজন, পরিস্থিতি মানুষকে বাধ্য করে নিজের সুবিধার জগত ত্যাগ করতে! অপরদিকে, খুব স্বল্প মানুষ শেখার আগ্রহ নিয়ে সুবিধার জগতের বাইরে পা রাখতে পারে।
উপরিউক্ত কথাগুলো উল্লেখ করবার কারণ বর্তমান সময়ে দাড়িয়ে আমার দৈনন্দিন রুটিন পরিবর্তন।
খুব সত্যি কথা বলতে, শুরুতে ভীষণ কষ্ট হয়েছে, প্রতিদিনের জার্নির অভ্যেস নষ্ট হয়ে যাওয়ায়।

এখনো যে খুব সাবলীল হতে পেরেছি এমনটিও নয়, যেমন ধরুন আজকের কথাই যদি উল্লেখ করি, আজকে ছিল বৃস্পতিবার!
অনেক সকালে উঠে, টিফিন তৈরি থেকে শুরু করে, ঘর পরিষ্কার করা, স্নান এবং পুজো সেরে উঠতে অন্যান্য দিনের চাইতে বাড়তি সময় ব্যয় হয়েছে, ফলত আমি পুনরায় সম্পার দ্বারস্থ হয়েছিলাম ট্রেনের সময় জানতে।

এই সহযোগিতা আমার জন্য যে কতখানি সেটা ভাষায় প্রকাশ করবার নয়।
আমি একেবারেই অজ্ঞ ট্রেনের বিষয়, তাই একটু এদিক ওদিক হলেই ভয় পেয়ে যাই।
আজকে বাড়ি ফেরার সময়েও একই ঘটনা ঘটেছে, আগের ট্রেন সামনে দিয়ে চলে গেলো, খানিক বসে থেকে সম্পাকেই ফোন করেছিলাম, যখন ও বলে দেয় পরের ট্রেনের বিষয় বিশদে, আমি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাই।

![]() | ![]() |
|---|
আজকে যাওয়ার সময়, ট্রেন থেকে নেমে হেঁটেই পৌঁছে গিয়েছিলাম শোরুমে।
ইচ্ছে করে এই অভ্যেস করছি, যাতে গাড়ি কম থাকলে অসুবিধায় পড়তে না হয়, এমনিতে দূরত্ব বেশি নয়, অটো স্ট্যান্ড থেকে শোরুম পর্যন্ত;
তাও অতিরিক্ত গরমের কারণে অনেকেই টোটো, ভ্যান, অটো ইত্যাদি করে যাতায়াত করে, তবে আমি সেসব করিনি।

পৌঁছে দেখলাম সাজানোর প্রক্রিয়া চলছে, আর কি! তুলে ফেললাম কিছু ছবি, সাথে ওইদিন যে শুটিং হয়েছিল, সেটার আরো একটা ক্লিপিং পাঠিয়েছে, তাই সব ভিডিও একসাথে করে, বাড়িতে বসে আজকের করা ভিডিওর সাথে সেটাও যুক্ত করে, আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করলাম।
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে আজকে সবটা সাজানো সম্ভব হয়নি, অন্ততঃপক্ষে যতক্ষণ আমি ছিলাম, তবে যেহেতু আগামীকাল উদ্বোধন তাই, রাতের মধ্যেই সবটা সাজানো হয়ে যাবে, যেটির সম্পূর্ণ ছবি সহ ভিডিও আপনাদের মাঝে আগামীকাল তুলে ধরবো।

![]() | ![]() |
|---|

ভিতরের সাজানো সম্পন্ন হয়েছে, তাই তার কিছু ছবি আপনাদের মাঝে তুলে ধরেছি।
আজকে যখন ফেরার পথে ট্রেনটা সামনে থেকে বেরিয়ে গেলো, তখন মনে হলো, এমন কত সুযোগ আমাদের চোখের সামনে দিয়ে চলে যায়, আর আমরা পরের সুযোগের প্রতীক্ষায় বসে থাকি এই ভেবে যে, হয়তো এরপর আরো ভালো, আর বড় কোনো সুযোগ আসবে পরবর্তীতে!
কিন্তু জীবনটা তো ট্রেন নয়, আর সময়ও থেমে থাকে না, তাই কখনও যদি সৃষ্টিকর্তা কোনো রকম সুযোগ দেয় জীবনে সেটাকে হেলায় হারানো বোকামী!
আরো একটা বিষয় আজকে উপলব্ধি করেছি, সেটা হলো, ঘরের শত্রু বাইরের শত্রুর চাইতে ভয়ংকর!
বাহ্যিক শত্রুর সাথে মোকাবিলা সহজ কারণ সেখানে কোনরকম ইমোশনাল বন্ডিং কাজ করে না, অপরদিকে ঘরের শত্রুর সাথে মোকাবিলা করতে গিয়ে মনের আঘাত সইতে হয়।
![]() | ![]() |
|---|

নাম উল্লেখ না করে, আজকে আপনাদের সাথে একটা সত্যি ঘটনা তুলে ধরছি।
এক্ বড় ব্যবসায়ীর দুই ছেলে, বাবা মারা যাবার পর, মায়ের উপস্থিতিতে ব্যবসা দুই পুত্র সন্তানের মধ্যে ভাগ হয়।
প্রথমে, ব্যবসায় ছোট ভাই এগিয়ে যাচ্ছে, এবং সময়ের সাথে ব্যবসা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই সূত্রে ছোট ভাইয়ের একদিন প্রাইভেট বিমানে করে মিটিং করতে যাবার কথা;
কিন্তু বিমান কিছুতেই চলছে না দেখে, সেদিন ছোট ভাই অন্য বিমানে মিটিং করতে গিয়েছিলেন;
বাড়ি ফিরে জানতে পারেন, ওই বিমান এর ফুয়েল ট্যাংক থেকে প্রচুর বালি এবং পাথরের টুকরো বের হয়েছে।
যদি, কোনো কারণে ওইদিন বিমান স্টার্ট হতো আর ছোট ভাই ওই বিমানে করে মিটিং করতে যেতেন, তাহলে ঐ বিমান ক্র্যাশ করতো।
বিশ্বস্ত সূত্রে পরে জানা যায়, কাজটি করিয়েছিলেন বড় ভাই!
বর্তমানে, বড়ভাই বিশ্বখ্যাতি পেয়েছেন, তবে আমি বিশ্বাস করি তার একটি সন্তানের স্বাস্থ্যের উপর দিয়ে সৃষ্টিকর্তা তাকে উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছেন।
অনেক সময় অন্যায় করে পার পেয়ে গিয়ে আমরা নিজেদের মহান মনে করতেই পারি, তবে উপরে বসে যিনি বিষয়টি দেখছেন, তিনি কোনো না কোনো ভাবে কর্মফল দিয়েই দেন, তাঁর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী।
আমি এ যাবৎ সেটাই দেখে এসেছি, আপনাদের এমন কোনো অভিজ্ঞতা রয়েছে কি?








Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟