দিনলিপি ৬ই আগষ্ট| আরেকটি ব্যস্তময় দিন!

in Incredible India5 days ago

1000094089.jpg

প্রিয় ডায়েরী,📓
আজকে আর ইংরিজি নয়, চলে এলাম তোমার কাছে নিজের মাতৃ ভাষায় আজকের অতিবাহিত দিনের খুঁটিনাটি, সাথে অর্জিত বেশকিছু অভিজ্ঞতার কথা নিয়ে!

অনেকদিন পর আজকে অনেক কথা বলেছি! একলা থাকলে শব্দগুলো মনে মনে নিজের সাথে বলে থাকি, তবে আজকে বলেছি আত্মীয় এবং শৈশবের পরিচিতি কাকু এবং কাকিমার সাথে!

অনেক জমা অভিমান ছিল, অনেক বেদনা, অনেক অযথা অভিযোগের উত্তর দেবার সুযোগ করে দিয়েছে আজকের দিনটি!

সবটাই তোমার পাতায় তোলা থাক! যাতে ভবিষ্যতে কেউ বানিয়ে কিংবা বাড়িয়ে কিছু বললে, তোমার পাতা থেকে সঠিক উত্তর খুঁজে পাই!

গতকাল একদিকে কাজের চাপ, অন্যদিকে আমার ছোট মামার ছেলের অসুস্থতার খবর সব মিলিয়ে আমি বেশ চাপে ছিলাম!

সে যাক, সেসব নিয়ে নয়তো আরেকদিন তোমার কাছে চলে আসবো, আজকে তোমাকে জানাই আজকের দিনের সূত্রপাত গতকাল থেকেই কিভাবে এক্ প্রকার শুরু হয়ে গিয়েছিল!

আমি তো ট্রেন সম্পর্কে একেবারেই অনভিজ্ঞ তাই আমার আর্জি নিয়ে সটান ফোনে সম্পার দ্বারস্থ হয়েছিলাম, ট্রেনের সময় জানতে!

ও কারণটাই তো তোমায় জানাতে ভুলে গেছি, আজকে যে প্রজেক্ট নিয়ে ইতিপূর্বে তোমাকে জানিয়েছিলাম, সেখানে পুজো ছিল!

1000094245.gif

তাই, ওই সকাল দশটার মধ্যে পৌঁছতে হতো আমাকে!
আর ঠিক সেই কারণে, আমি সম্পাকে ট্রেনের সময় দেখে দিতে বলেছিলাম, যাতে সেই অনুযায়ী আমি গতকাল থেকেই নিজের কাজ গুছিয়ে রাখতে পারি!

তাহলে, এবার আজ সকাল থেকেই নিজের কাজের ফিরিস্তি দিয়ে তোমার পাতা ভরাই, তারপর নয়তো বাকি কথায় আসা যাবে!

যদি একঘেয়েমি লাগে, অবশ্যই জানিও! ও তুমি তো আবার শুধু শোনো, থুরি ভুলে গেছিলাম!

গতকাল রাতে আমি ঘণ্টা তিনেক ঘুমিয়েছি! উঠেছি আজ ভোর পাঁচটায়!
তারপর, ওই রোজ নামচার কাজকর্ম আর আমার সকলের পানীয় পান করে, লেগে পড়েছিলাম ঘরের কাজে!

মানে, ওই ঘর পরিষ্কার করার কথা বলছি! সেই সেরে উঠতেই আমার প্রায় সাতটা বেজে গিয়েছিল।
এরপর স্নান সেরে পুজো দিয়ে উঠে পেলাম সম্পার ফোন, ও ঠিক মনে করে আমায় ট্রেনের সময় জানিয়েছে, যদিও গতকাল একপ্রস্থ আলোচনা হয়েছিল!
তবে, গতকাল আরেকটি বিষয় শিখেছিলাম, ট্রেনের সময় যেদিনের ট্রেন সেদিন সঠিকভাবে জানা যায়, সে নাকি আবার আগাম জানান দেয় না!
কি ভিআইপি ট্রিটমেন্ট রে ভাই! যাক, এরপর তৈরি হয়ে ট্রেন স্টেশনে পৌঁছে গিয়েছিলাম ঠিক সময়।

1000094082.jpg1000094084.jpg

1000094083.jpg

পৌঁছে সম্পাকে ফোন করে জানিয়েছিলাম আমি পৌঁছে গিয়েছি।
এরপর স্টেশনে কি ভিড় রে বাবা! মানে ওই কি যেনো বলে, ডাউন এর দিকে!

ট্রেন মিনিট দশেক দেরিতে স্টেশনে হাজির হলো, আমি উঠে বসলাম, এরপর অতি কষ্ট করে দুটো ছবি তোমার পাতায় তুলে ধরতে তুলেছিলাম!

তারপর, স্টেশনে নেমে আমার মামাকে ফোন করে দেখি ফোন কেটে যাচ্ছে, কি যন্ত্রণা!
একদিকে বাইরে বৃষ্টি, তার উপর মামা নিরুদ্দেশ!
যা হোক করে তার সন্ধান পাওয়া গেলো!

এরপর, প্রতীক্ষা কখন অটোরিক্সায় প্যাসেঞ্জার ভর্তি হবে, তবে গাড়ি স্টার্ট হবে!
তা এক্ সময় হলো! এরপর পুজোর জন্য মিষ্টি কিনে আমার মোটর ভ্যান ধরলাম!

1000094086.jpg

1000094087.jpg1000094088.jpg

1000094327.gif

এক প্রকার যুদ্ধ জয় করে আমি শেষমেশ গন্তব্য স্থলে পৌঁছলাম!
উপরে মিষ্টির প্যাকেট রেখেই নিচে এসে ছবি তুলে নিলাম!

জানলাম, আমি আর আমার মামা প্রথম হয়েছি হাজিরায়!
ভাগ্যিস আদালত ছিল না! মক্কেল হাজির কিন্তু উকিলের দেখা নেই!
মানে ওই পুরুত মশাই! তবে, বেচারা খানিক বাদেই সাইকেলে করে হাজির হয়ে গিয়েছিল!

এরপর, পুজোর জোগাড়, থেকে সবটাই দোকানের কর্মচারীরা খুব যত্নের সাথে করেছে, আমাকে কিছুই করতে হয়নি!

পুজো শুরু হবার আগে কৃষ্ণ নগর থেকে নিয়ে আসা মা লক্ষী আর গণেশ আর ছবি তুলে নিয়েছিলাম!
পুজোয় বসে গেলে তারা ছবি তুলতে গেলে বিরক্তবোধ করতে পারেন!

দেখেন না, অনেক আর্টিস্ট কেমন পাপরাজীদের এড়িয়ে চলে!
এরপর, থেকে একে একে আমার দিদি, বৌদি, তারপর কাকা, কাকিমা আর পরিচিতদের আগমন শুরু হলো!

কিছু মানুষদের দেখে প্রথমটায় একটু এড়িয়ে যাচ্ছিলাম, কারণ আজকের পুজোর শুভ দিন আমি কোনরকম বিতর্ক চাইছিলাম না!
তবে, যদি ধরুন কেউ মৌচাকে ঢিল ছোড়ে, তাহলে তার পরিণতি কি হবে, তুমি বলো আমার প্রিয় ডায়েরী?

শুধু শুনে যাবো? মিথ্যে অপবাদ, কটূক্তি, আর কত কথা যেগুলো আমার ভিতরে জমতে জমতে পাহাড়ের আকার নিয়েছিল!

যেখানে, ছিল না নিজের আত্মস্বার্থ, যেখানে নিজেদের প্রয়োজনে ডেকে, কাজ মিটে গেলে মুখ মুছে ফেলা, সেখানে কেনো সবটা মুখবুজে সহ্য করবো?

আজ, আমার মাসির মেয়ে এসেছিল নিজের দোষ খন্ডন করতে, আমিও তৈরি ছিলাম, স্পস্ট কথায় কষ্ট নেই!
তাই, যা ছিল মনে, সবটাই উগড়ে দিয়েছি।

আমার ফোন নম্বর নিয়ে গেছে, যদিও আমার কারোর থেকে কোনো প্রত্যাশা নেই কোনরকম যোগাযোগের!

তবে, আজকে মনে জমে থাকা অনেক কথা আলোচনা রূপে বেরিয়ে গেছে!
তাই, আজ মন শান্ত, আর সাথে এই মুহূর্তে অনেক ওষুধ খেতে হয়েছে, ওই সাড়ে চারটে নাগাদ ফিরে আমি আবার স্নান করেছিলাম!

1000094090.jpg

1000094103.jpg1000094104.jpg

1000094105.jpg

এক সময় এই রকম অভ্যেস ছিল শরীর মেনে নিয়েছিল, এরপর দৈনন্দিন নিয়ম পরিবর্তন হলো, সঙ্গে আমার দৈনন্দিন রুটিন!
সেটাও, শরীর মেনে নিয়েছে সময়ের সাথে, এখন আবার দুদিন দৈনন্দিন রুটিন পরিবর্তন হওয়ায়, শরীর যেনো বলছে, কি রে মজা পেয়েছিস? এই বলে যে গা গরম হতে শুরু করলো, বাধ্য হয়ে ওষুধ খেতে হলো!

আজকে, প্রসাদ পেয়ে মনটা ভীষণ খুশি হয়ে গিয়েছিল, ফল প্রসাদ, সিন্নি, আর মিষ্টি!

অবশ্য গতকাল সেই দুপুরে ছিল খেয়ে আজকে ওই ফল প্রসাদ খাবার পরেও যখন ফিরছিলাম, তখন খিদে পেয়ে গিয়েছিল, তাই মামা আর আমি একটা বাঙালি হোটেলে খেয়ে, শেষে মামাকে নিয়ে ব্যাংকে গিয়েছিলাম কিন্তু লিংক ছিল না, তাই মামার আধার কার্ড এর নম্বর পরিবর্তন সম্ভব হয় নি!

অগত্যা, মামা আমার কাছে নিজের আধার কার্ড রেখে, স্টেশনের দিকে পা বাড়ালো, আর আমি আমার বাড়ির পথে!

সম্পর্কের সবচাইতে বড় শত্রু ভুল বোঝাবুঝি, আর এটা যেমন একপক্ষ তৈরি করে, আরেক পক্ষ ইগো ধরে রেখে তার সত্যতা জানতে আগ্রহী হয় না বলেই যত রকমের গণ্ডগোল!

এই সুযোগটা আমি সেই সুযোগসন্ধানীদের দিতে চাই না, বলেই আমি আজকে আদ্যোপান্ত সবটা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় সামিল গিয়েছিলাম, হয়তো সৃষ্টিকর্তাও সেটাই চেয়েছিলেন, তাই আজকে সকলে এক ছাদের নিচে একত্রিত হতে পেরেছিলাম।

কথার ওজন এবং শক্তি কতখানি, সেটা যদি কথা বলার সময় মানুষ উপলব্ধি করতে পারতো, তাহলে অনেক সম্পর্ক হয়তো ভাঙার হাত থেকে বেঁচে যেত!

1000010907.gif

1000010906.gif

Sort:  
Loading...
Loading...