একটা দিন, অনেকগুলো মুহুর্ত!
![]() |
|---|
আজকের লেখায় যে দিনটির কথা উল্লেখ করছি সেটি গত ৭ই সেপ্টেম্বরের!
যখন ঘরের চার দেওয়ালের মাঝে দিন অতিবাহিত হয়, তখনও সময়ে টান পড়ে যদি ঘরে অতিথি থাকে, কিংবা কোনো অনুষ্ঠান হয়!
অন্যদিকে যদি কোনো কারণে আমরা বাহ্যিক কাজের সাথে যুক্ত থাকি, তাহলে সময় শুধু কাজ নয়, সাথে অতিবাহিত হয়, একাধিক মুহুর্তের সমষ্টিতে।
![]() | ![]() |
|---|

এমন একটি দিন ছিল ৭ই সেপ্টেম্বর। সকালে উঠেছিলাম ওই সাড়ে ছয়টা নাগাদ, তারপর যেমনটা এখন করে থাকি, সঙ্গে নিয়ে যাবার টিফিন তৈরি করে নিয়েছিলাম, প্রাত্যহিক কাজ সম্পন্ন করে, অর্থাৎ রিফ্রেশ হয়ে চা, সকলের হার্বাল ওয়াটার সেবন করে।
সাত তারিখ নতুন কেনা টিফিন বক্স করে টিফিন নিয়েছিলাম, কারণ আগের দিন স্টিলের বাক্সে নেওয়া টিফিন থেকে তেল বেরিয়ে জলের বোতল এবং যে প্লাস্টিকে করে খাবার নিয়ে গিয়েছিলাম সমস্ত মাখামাখি হয়ে গিয়েছিল।
ওইদিন ফেরার পথে, টিফিন কিনে নিয়েছিলাম, যার উল্লেখ করেছি আগের লেখায়।
![]() | ![]() |
|---|
এরপরের দিন, আমার ল্যাপটপ ব্যাগে করে নতুন টিফিন বাক্সে টিফিন নিয়ে গিয়েছিলাম।
রোজ রোজ বেরোতে হলে, পিঠ ব্যাগ অনেক সুবিধাজনক, সেটা উপলব্ধি করলাম।
দেখি, সময়ের সাথে ইচ্ছে আছে একটি পিঠ ব্যাগ কেনার!
খানিক দেরি হয়ে গিয়েছিল, তাই অটো করে খানিকটা গিয়ে, তারপর বাসে করে পৌঁছেছিলাম প্রজেক্টের জায়গায়।

এরপর, যেমনটা আগের দিন করেছিলাম, কয়েকটি ছবি তুলে নিয়েছিলাম, লেখায় তুলে ধরবার জন্য!
আমার বেশকিছু ড্রেস পছন্দ হয়েছে,
ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ওখান থেকেই কিনবো, কারণ একই জিনিসের বাইরে দামের কি ভীষণ পার্থক্য সেটা যেদিন বারকোড বের করছিল সেটা দেখেই অনুমান করেছিলাম।

এখানে যে শিক্ষা সেদিন হয়েছিল, সেটা হলো, ব্যবসা করবার একেক জনের একেক ধরন;
কেউ একটা জিনিষ বিক্রি করেই, রাতারাতি ধনী হতে চায়, আর যারা বংশ পরম্পরায় ব্যবসা করে, তাদের কাছে রেপুটেশন সর্বাগ্রে!
সেখানে লাভের পরিমাণ নয়, জিনিসের মান সহ, কাস্টমারের কাছে নিজেদের ব্র্যান্ড নাম অগ্রাধিকার পায়।




![]() | ![]() |
|---|
এরপর, পুনরায় বেড়িয়েছিলাম আসে পাশের লোকজনদের নিমন্ত্রণ করতে, এখানেই দেখা হয়ে গিয়েছিল আজ থেকে কুড়ি বছর আগে আমার মাসতুতো কাজিন এর বাড়িতে থাকা এক্ ভাড়াটিয়ার সাথে।
আমার কাজিন এর বিয়েতে আমি যখন শিলিগুড়ি থেকে এসেছিলাম, তখন শেষ দেখা হয়েছিল, তাই একাধিক ব্যাক্তিগত প্রশ্ন করছিলেন ওই কাকিমা!
বেশ অস্বস্তি হচ্ছিল, কারণ সঙ্গে ছিল দোকানের বেশকিছু কর্মচারী।
পরে কথা হবে জানিয়ে খানিক পালিয়ে যাবার প্রয়াস করেছিলাম, আসলে কিছু মানুষ স্থান, কাল, পাত্র না বুঝেই কথা শুরু করে দেন!
কখন, কোথায়, কতটুকু বলা উচিত এটাও একটা শিক্ষা, যেটি সকলের থাকে না।

![]() | ![]() |
|---|

ওইদিন একসাথে ৩৯টি বাড়িতে নিমন্ত্রণ কার্ড দিয়ে হাপিয়ে গিয়েছিলাম, তারপর, আমি আর সঙ্গে যাইনি, আরো ৫০ টি কার্ড নিয়ে স্টার নামের মেয়েটি সঙ্গে আরো তিন জনকে নিয়ে নিমন্ত্রণ পর্ব সেরে এসেছিল।

এরপর, ফিরে এসেছিলাম, আমি কারণ ওইদিন বেশ বৃষ্টি ছিল গোটা দিন ধরে।
কাজের মধ্যে একটা আস্ত দিন অতিবাহিত হয়ে গিয়েছিল নিমেষে, অথচ এই ব্যস্ততার মাঝেই কিছু প্রশ্ন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল অতীতে, হারিয়ে যাওয়া সময়, মানুষের ভিড়ের মাঝে।


আন্তরিকতা খারাপ বিষয় নয়, তবে আন্তরিকতা যেনো কারোর অস্বস্তির কারণ হয়ে না দাঁড়ায় সেটা অবশ্যই ভাবা উচিত।
যে সকল প্রশ্ন, যে কথা অন্যের দুর্বলতা, কষ্টের কারণকে উস্কে দেয়, সেগুলো থেকে বিরত থাকাই সুস্থ্য মানসিকতার লক্ষণ, কারণ প্রত্যেকের জীবনেই কিছু কাহিনী, কিছু মুহূর্ত থাকে, যেগুলো নিয়ে আলোচনায় সেই মানুষগুলো স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না;
এই শিক্ষাটা, এই মানসিকতা কতজন বহন করে, আমার সত্যি জানা নেই!
আপনাদের আছে? জীবনের চলার পথে কখনও দেখা হয়েছে এমন কোনো মানুষের সাথে আপনাদের? যদি লেখাটি পড়ে থাকেন, মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না, কেমন!











ব্যবসা সবাই করতে পারে না, আবার সবার ব্যবসা পরিচালনার পদ্ধতিও এক রকম নয়। গতকাল আমি একটি দোকান থেকে কিছু পোশাক কিনেছিলাম। পরে বন্ধুর কাছে জানতে পারলাম, সে একই ধরনের পোশাক আমার চেয়ে বেশ কম দামে কিনেছে, অথচ কাপড়ের কোয়ালিটিও প্রায় একই। দোকানদার অবশ্য বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আমাকে বুঝিয়ে বিক্রি করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনে হলো আমিই একটু বেশি দাম দিয়ে ফেলেছি! পোশাকগুলো যেহেতু আমার পছন্দ হয়েছে, তাই বেশি দাম দিয়ে ফেলেছি ভেবে মন খারাপ করে লাভ নেই। তবে আমার মনে হয়, যারা বংশপরম্পরায় ব্যবসা করে এবং দীর্ঘদিনের ক্রেতাদের ধরে রাখতে চায়, তারা অনেক সময় ক্রেতার কথা কিছুটা হলেও বিবেচনা করে।আপনার টিফিন বক্সের সাজানো-গোছানো পরিবেশনটিও বেশ ভালো হয়েছে। বিশেষ করে ছোলার আলুর সবজিটা আমার কাছে লোভনীয় লাগছে।