জন্মদিনের দিনটি কীভাবে কাটালাম - ৩য় পর্ব

in Incredible India12 days ago (edited)

প্রথমেই সকলকে নমস্কার। আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমিও বেশ ভালো আছি। আজ আমি আবার একটি নতুন গল্প নিয়ে চলে এসেছি। আশা করছি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। আজ শেয়ার করব আমার জন্মদিন নিয়ে। আমার পরীক্ষা থাকার কারণে বেশ অনেকদিন পোস্ট করতে পারেনি।

1000498284.jpg

এর আগে যেখানে গল্প শেষ করেছিলাম আজ সেখান থেকেই শুরু করছি। আগের পোস্টেই বলেছিলাম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আমার ছোটবেলার বন্ধুকে কল করে ডেকে নেই। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে চলে আসে। আমার বন্ধুর নাম বিক্রম। তখন বেশ অনেকটাই রাত হয়ে যায়, প্রায় রাত সাড়ে নয়টা বাজে।

আমি আর মা মিলে এদিকে লুচি, পায়েস, আলুর দম সুন্দর করে থালার মধ্যে সাজিয়ে আনি। এরপর বুনু একটা প্লেটে কেকটা বের করে। এবার কেক কাটার পালা.... কিন্তু! জন্মদিনে ছবি তুলবো না তাই কখনও হয়! তাই কেক কাটার আগে বেশ কয়েকটা ছবি তুলে নেই।

1000501381.jpg

এইভাবে সবার সাথে কেক কেটে জন্মদিন পালন করি। এবার কেক খাওয়ানোর পালা.... সবাই প্রথমে আমাকে কেক খাওয়ায়। তারপর আমিও খাওয়াই কিন্তু এখানে ঘটতে ঘটতে ঘটলো না একটা ঘটনা।
ঘটনাটি হচ্ছে বিক্রমরা রথযাত্রার জন্য এক মাস ধরে নিরামিষ খায়। আর আমি বিক্রমকে কেক খাওয়াতে যাচ্ছিলাম আর বিক্রমও হা করেছিল খাওয়ার জন্য তখনই ওর মনে পড়েছে যে কেক এ ডিম আছে। আসলে কেকটা নিরামিষ ছিল না।
সেখানে আমাদের হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা। আর একটু হলেই কেকটা মুখে চলে যাচ্ছিল। তারপর বিক্রম বলছে "তুই আমার জাতি নষ্ট করে দিচ্ছিলি এখনই।" সত্যিই আর একটু হলেই অঘটন ঘটে যাচ্ছিল। আর বিক্রমদের বাড়ি থেকে রথ বের হয়, ওদের বাড়িতে রথযাত্রা পালন করা হয়।

1000498315.jpg

তারপর আমরা সবাই একসাথে খেতে বসি। খেতে খেতে বিক্রম বলছে তোদের বাড়িতে খেতে আমার লজ্জা লাগে। আমি কারণ জানতে চাইলে সে বলে "তোরা অল্প অল্প খাস আর আমি বেশি খাই।" এটা শুনেও আমার হাসি পাচ্ছিল। তারপর আমি বললাম এটা লজ্জা পাওয়ার কোনো কারণ হলো! তুই খেতে ভালোবাসিস তাতে কী হয়েছে! আসলে বিক্রম খাদ্যরসিক মানুষ।

1000498312.jpg

সবার খাওয়া দাওয়া হয়ে গেলে আমরা সবাই মিলে বসে বেশ গল্প করি আড্ডা দেই। বেশ ভালো লাগে। অনেকদিন ধরে এরকম গল্প করা হয় না। এইসব করতে করতে বিক্রম এর বাড়ি থেকে কল করে বাড়ি যাওয়ার জন্য। তখন অনেকটাই রাত হয়ে গেছিল, রাত তখন ১১ টা বাজে। তাই বিক্রমকে আর আটকে না রেখে যেতে দিলাম।

ওকে যেতে দিলেও আমাদের ঘুমোতে ঘুমোতে রাত ১২ টা পার হয়ে যায়। সবকিছু ঠিক মতো গুছিয়ে, বিছানা ঠিক করে তারপর তো ঘুমোনো আর ভাই তো ছিলই আমাদের সাথে তাই ঘুমোতে ঘুমোতে আরও রাত হয়ে যায়।

এইভাবেই আমি আমার জন্মদিনের দিনটি আনন্দে কাটাই। বেশ মজা করি আর খুব ভালো লাগে। নিজের জন্মদিনে একটা আলাদাই অনুভূতি হয়।
আজ এখানেই শেষ করছি বন্ধুরা। সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।

Sort:  
Loading...

image.png
Curated by : sergeyk