অপূর্ব কারুকাজ ও মহামায়ার ঐশ্বরিক রূপ
প্যান্ডেলে প্রবেশ করার মুহূর্ত থেকেই মনে হচ্ছিল যেন কোনো রাজ প্রাসাদে প্রবেশ করেছি। চারপাশের কারুকাজ, ঝাড় বাতির আলো এবং মায়ের অপরূপ প্রতিমা পুরো পরিবেশকে এক স্বর্গীয় আবহ এনে দিয়েছিল। প্যান্ডেলের প্রবেশ দ্বারে একটি বিশালাকৃতির প্রহরীর মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। হাতে দণ্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই মূর্তিটি যেন পুরো মণ্ডপের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক। মূর্তিটির পোশাক, অলঙ্করণ এবং মুখাবয়বের সূক্ষ্ম কাজ শিল্পীদের অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় বহন করে। মূর্তিটির পেছনে কালো রঙের স্তম্ভ ও সাদা নকশার সমন্বয় এমনভাবে করা হয়েছে যে, তা প্রাচীন রাজকীয় স্থাপত্যের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। আলোর ব্যবহারে মূর্তিটি আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছিল।
প্যান্ডেলের ভেতরে ঢুকতেই চোখ আটকে যায় ছাদের দিকে। বিশাল ঝাড় বাতিগুলো পুরো মণ্ডপকে আলোকিত করে তুলেছিল। ঝাড় বাতির ঝলমলে আলো ছাদের জটিল কারুকাজের উপর পড়ে এক অনন্য সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছিলো। ছাদের প্রতিটি অংশে সূক্ষ্ম নকশা, বৃত্তাকার অলঙ্করণ এবং ঐতিহ্যবাহী মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছে। কালো, সাদা, সোনালি ও লাল রঙের সমন্বয় পুরো নকশাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিল। মনে হচ্ছিল যেন কোনো রাজকীয় দরবারের ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে আছি। প্যান্ডেলের মূল আকর্ষণ ছিল মা দুর্গার প্রতিমা। সম্পূর্ণ প্রতিমা এবং চালচিত্রে একধরনের শৈল্পিক একরঙা সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। সাধারণ উজ্জ্বল রঙের পরিবর্তে এখানে হালকা মাটির রঙ ও সূক্ষ্ম অলঙ্করণ ব্যবহার করা হয়েছিল, যা প্রতিমাকে এক বিশেষ মর্যাদা প্রদান করেছিলো।
