অন্যের সন্তানকে কখনো শাসন বা অতিরিক্ত ভালোবাসা ভালো নয়।

in আমার বাংলা ব্লগ • yesterday


কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।



সোর্স



আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছে যারা ভালবাসলে ভালোবাসার সীমা বোঝেনা। আসলে আমাদের জীবনের সবকিছুর একটা সীমারেখা আছে তেমনি ভালবাসারও একটা সীমা আছে। সীমা অতিক্রম করলে কোন জিনিসই আমাদের জীবনের জন্য বা আমাদের জন্য ভালো হয় না। আমরা যেমন নিজের পরিবারের মানুষকে অতিরিক্ত ভালবাসলে তাদের কাছে বিরক্ত হয়ে যায় তেমনি অন্য কাউকে যদি বেশি ভালোবাসি তাদের কাছেও জিনিসটা অনেক বেশি অসহ্য ও বিরক্ত কর প্রমাণ হয়। তবে এই পৃথিবীতে এমন দুটো জিনিস আছে যা পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষই অনেক বেশি ভালোবাসা ও পছন্দ করে, সেই দুটি জিনিসের মধ্যে একটি হল ফুল অন্যটি হলো শিশু অর্থাৎ বাচ্চা। এই পৃথিবীতে এমন কোন ব্যক্তি নেই বা মানুষ নেই যে বাচ্চাকে ভালোবাসে না বা পছন্দ করেনা। তবে নিজের বাচ্চাকে সকলেই ভালবাসলেও কিছু কিছু সময় অন্যের বাচ্চার প্রতিও একটা অন্যরকম ভালোবাসা ও টান অনুভব হয়। যে ভালোবাসা ও টান থেকে আমরা কোনভাবেই নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারি না।


আমাদের জীবনে এমন অনেক পরিস্থিতি আসে যার কারণে আমরা কোন একটি বাচ্চার সাথে এমন ভাবে জড়িয়ে পড়ি দীর্ঘ সময় একসাথে থাকতে থাকতে এমন মায়া জড়িয়ে পড়ি যে মায়া ছেড়ে বের হওয়া আমাদের পক্ষে ভীষণই কষ্টকর হয়ে পড়ে। আমরা সকলেই জানি যে অন্যের সন্তান অন্যের ই হয় কখনো আমাদের কাছে সারা জীবন স্থায়ী ভাবে থাকবে না বা আমাদের তাদের পরে কোন অধিকার নেই। কিন্তু অনেক সময় এমন হয় যে মায়া ও ভালবাসায় জড়িয়ে পড়ে আমরা এতটা বেশি অধিকার দেখাতে থাকি যা পরবর্তীতে আমাদের জন্যই সবথেকে বেশি ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। আসলে আমাদের কখনোই অন্যের সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা আর অধিকার দেখানো উচিত নয়। আমরা যদি অন্যের সন্তানের প্রতি বেশী আবেগী হয়ে পড়ি সে ক্ষেত্রে তারা যখন আমাদের থেকে দূরে চলে যাবে তখন সব থেকে বেশি কষ্ট আমাদেরই হবে। আবার আমরা যদি অন্য সন্তানকে বেশি ভালোবাসি তবে আমাদের একটা অধিকারবোধ জন্ম নেবে যার থেকে তার ওপরে শাসন বারণ অনেক কিছুই বেড়ে যাবে যেটা তার বাবা-মা কোনভাবেই পছন্দ করবে না।


আর এই অপছন্দের কারণেই সেই সন্তানের বাবা মায়ের সাথে আমাদের সম্পর্ক মনে মনে অনেক বেশী তিক্ত হয়ে উঠবে আর একটা সময় এসে সম্পর্ক পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। আসলে প্রত্যেকটা মানুষই তার জিনিসের পরে অন্যের অতিরিক্ত অধিকার কখনোই পছন্দ করে না। আমরা যদি কারও সন্তানকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভালবাসি শাসন করি বা মায়ায় পড়ে তাকে বেশি কাছে রাখার চেষ্টা করি সেটা তার বাবা-মায়ের কোনভাবেই পছন্দ হবে না। নিজের সন্তান নিজের কাছেই সবথেকে বেশি প্রিয় তাই আমরা যদি অন্য কারো সন্তানকে অতিরিক্ত ভালবাসি ও শাসন করার চেষ্টা করি তবে তাদের কাছে আমাদের এই শাসন ভালবাসা কোনভাবেই পছন্দজনক হবে না। আর সব থেকে যেটা বড় কথা সেটা হল আমরা যখন অন্য কারো সন্তানকে অনেক বেশি ভালোবাসবো তখন আমরা নিজেরাই তার সাথে মানসিকভাবে জড়িয়ে পড়বো যার কারণে আমাদের ভালোলাগা খারাপ লাগার সবকিছুই তার উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। আর এরপরে সেই সন্তান যদি আমাদের ছেড়ে দূরে চলে যায় তবে তাদের পরিবারের কোনো রকমই অসুবিধা হবে না সব থেকে বেশি কষ্ট লাগবে আমাদেরই।


আসলে বাচ্চারা অনেক বেশি পবিত্র এবং ভীষণই মায়াবী হয়ে থাকে যার ফলে আমরা তাদের ভালোবাসায় খুব সহজে জড়িয়ে পড়লেও তাদের ভালবাসা থেকে আমরা নিজেকে সরিয়ে নিতে অতটাও সহজে পারব না। তাই বাচ্চাদের ভালোবাসায় যদি কোন মানুষ জড়িয়ে পড়ে বা এমন কোন মানুষ যাদের নিজস্ব কোন সন্তান নেই তারা যদি কোন বাচ্চার ভালোবাসায় ভীষণভাবে জড়িয়ে পড়ে তখন তাদের কাছে সেই বাচ্চার মায়া ত্যাগ করা ও ভালোবাসা থেকে দূরে থাকা ভীষণ কষ্টকর হয়ে পড়ে। যাদের নিজস্ব সন্তান নেই তাদের ভালোবাসা আরো তীব্র হয়ে থাকে, যার ফলে অন্য সন্তানের প্রতি ভালোবাসা অনেক বেশি গভীর হয়ে থাকে। তাই বিশ্বাস করে এই সব মানুষের অন্যের সন্তানের প্রতি ভালোবাসা ও অধিকারবোধ দেখানো থেকে অনেক বেশি বিরত থাকা উচিত কারণ দিনশেষে অন্যের বাচ্চা অন্যেরই অধিকারের আর আমাদের কোনই অধিকার থাকবে না। তাই অন্যের সন্তানের প্রতি আদর যত্ন থাকা ভালো কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত কখনোই আদর যত্ন মায়া-মমতা ও ভালোবাসা দেখানো উচিত নয়।

ক্যামেরা পরিচিতি : Realme
ক্যামেরা মডেল : realme narzo 60 pro
ক্যামেরা লেংথ : 26 mm



আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।