বন্ধ ঘরের ভেতরের শব্দ ( পর্ব ২২ )
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "বন্ধ ঘরের ভেতরের শব্দ" গল্পের ২২ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর হঠাৎ একটা ঠান্ডা নিঃশ্বাস যেন তার কানের পাশে এসে থামল। তারপর একেবারে ফিসফিস করে- আমি তো তুই...ঈশানের পুরো শরীর অবশ হয়ে গেল। ঠিক তখনই হরিদা দেশলাই জ্বালালেন। এক ঝলক আলো, আলো জ্বলতেই চারপাশ আবার ফাঁকা। বারান্দায় কেউ নেই, কেবল ভেজা মেঝেতে দু'রকম পায়ের ছাপ।একটা ঈশানের, আরেকটা উল্টো। যেন মানুষটা গোড়ালি সামনে রেখে হাঁটছিল। হরিদা নিচু হয়ে পায়ের ছাপের দিকে তাকালেন। তারপর ফিসফিস করে বললেন- সময় শেষ হয়ে আসছে। রাতে খাওয়ার সময় দুজনেরই মুখে কোনো কথা নেই।পুরো বাড়িটা অদ্ভুতভাবে চুপচাপ। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকও নেই। কুকুরের ঘেউ-ঘেউ নেই।
মনে হচ্ছে বাড়িটা যেন পৃথিবী থেকে আলাদা হয়ে গেছে।খাওয়া শেষ করে হরিদা একটা লোহার পুরোনো চাবির গোছা এনে টেবিলের ওপর রাখলেন।গোছায় অন্তত পঞ্চাশটা চাবি, সবগুলোর আকার আলাদা। তিনি একটা কালচে রঙের মোটা চাবি আলাদা করলেন। ঈশান অবাক হয়ে বলল- এটা কী? হরিদা অনেকক্ষণ চুপ থেকে বললেন- দোতলার শেষ ঘরের চাবি, ঈশান হতবাক। চাবি আপনার কাছে? ছিল। ছিল মানে? বৃদ্ধ মৃদু হাসলেন আর বললেন- আজ থেকে এটা তোমার। ঈশান চাবিটা হাতে নিয়ে অনুভব করল, অদ্ভুত ঠান্ডা। যেন বরফের মধ্যে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে। এটা আমাকে দিচ্ছেন কেন? হরিদা খুব ধীরে বললেন- কারণ এবার সিদ্ধান্ত তোমার। কী সিদ্ধান্ত? দরজা খুলবে, না বন্ধ রাখবে। ঈশান রেগে উঠল- আপনি কি পাগল? এতক্ষণ ধরে দরজা না খুলতে বললেন, আর এখন নিজেই চাবি দিচ্ছেন?....
