পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর ( পর্ব ৩ )
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর" গল্পের তৃতীয় পর্ব শেয়ার করে নেবো। উঠোনের মাঝখানে বিশাল একটা বটগাছ, শিকড় নেমে এসে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।একপাশে ভাঙা পাথরের সিংহমূর্তি এবং অন্য পাশে শুকনো পুকুর। বাড়ির দেওয়ালে শ্যাওলা জমেছে এবং দোতলার বারান্দার অনেকগুলো জানালার কাচ ভেঙে গেছে। কিন্তু একটা জানালা দেখে অর্ক থেমে গেল। উত্তর দিকের জানালা, সেটা অন্য সব জানালার থেকে আলাদা। কালো কাঠের পাল্লা বন্ধ এবং তার সামনে মোটা লোহার গ্রিল। আর ঠিক তার নিচেই দেওয়ালের একটা অংশ অস্বাভাবিকভাবে কালো হয়ে আছে। অর্ক তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ মনে হলো- জানালার ভেতর থেকে কেউ যেন তাকে দেখছে।সে চোখ কুঁচকে তাকাল, কিন্তু কেউ নেই।
“বাজে চিন্তা,” নিজেকেই বলল অর্ক। তারপর দ্রুত ভেতরে ঢুকে গেল। দরজা খুলে বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই ধুলোর গন্ধ নাকে এল। দালানটা এখনও বিশাল- উঁচু ছাদ, দেয়ালে পুরনো তেলের ছবি।একসময় যেসব ঝাড়বাতি আলোয় পুরো বাড়িটা ঝলমল করত, সেগুলোর বেশিরভাগই এখন ধুলোয় ঢাকা। অর্ক মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে চারপাশ দেখতে লাগল। ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা গলা শুনতে পেল- বাবু? অর্ক ঘুরে দাঁড়াল।দরজার কাছে দাঁড়িয়ে একজন বৃদ্ধ, বয়স সত্তরের কাছাকাছি। ধবধবে সাদা চুল, হাতে পুরনো লণ্ঠন।অর্ক প্রথমে চিনতে পারেনি। বৃদ্ধ নিজেই হাসলেন- চিনতে পারছেন না? অর্ক কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল- নিতাই কাকা? বৃদ্ধের মুখে হাসি ফুটে উঠল- এই তো! এত বড় হয়ে গেছেন, তবু চিনলেন। নিতাই ছিল এই বাড়ির পুরনো কর্মচারী। অর্ক ছোট থাকতে তাকে দেখেছে।....
