রুচির রোলার

in আমার বাংলা ব্লগ4 days ago

35453.jpg
source

ফেসবুকে আমেরিকা প্রবাসী এক ভদ্রমহিলার লেখা পড়ছিলাম। তিনি তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আকাশপথে যাত্রার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন, মূলত তার পাশের সিটে একজন জেন-জি বসেছিল এবং বিমান থেকে দেওয়া ওয়াইন খাচ্ছিল,সেটা নিয়েই তার নানারকম অভিব্যক্তি তৈরি হয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়া গরম করে ফেলেছে পোস্ট লিখে।

তখন বাধ্য হয়েই নিম্নোক্ত মন্তব্যটি করতে হয়েছে।

নিজের যেটা ভালো লাগে না, সেটা যে অন্যেরও ভালো লাগবে না—এমনটা তো কথা নেই । তবে সবকিছুতে নিজের ছেলেকে কেন্দ্র করে দেখার প্রবণতাটা কেমন যেন দেখায়, সেটাও বোধহয় একটু ভাবার বিষয়।

ওর জায়গায় আমি হলে পুরো এক বোতলই নিতাম। গল্প যেহেতু শুরু হয়েই গেছে, সারা পথ গিলতাম আর গল্প করতাম। যে জিনিস নিয়ে এত নাক সিঁটকানো, সেটাই আবার যাত্রাপথে পরিবেশন করার প্রয়োজনটাই বা কী?

পৃথিবীতে সবার রুচিবোধ এক হবে না—এটাই স্বাভাবিক। আর আপনার ছেলে আমেরিকায় জন্মে কতটুকু জেন-জি সত্তা ধারণ করে, সেটাও জানি না। তবে জেন-জি সত্তা ধারণ করতে হলে পোক্ত শিরদাঁড়া লাগে; যা হয়তো পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে আপনার ছেলের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকতেও পারে।

তর্কে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই। যা বলার, সোজাসাপ্টাই বলে দিয়েছি। প্রত্যেক মানুষের দর্শন, রুচি ও দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা—এটাই স্বাভাবিক। পাশের সিটে লেখিকা বসেছেন, নাকি প্রেসিডেন্ট—সেটাও মুখ্য কোনো বিষয় নয়। তাছাড়া ছেলেটা এমন আহামরি কিছু করেনি, যার জন্য এত হাহুতাশ করতে হবে।

আর বাস্তবতার কথা যদি বলেন—থাকি বঙ্গপ্রদেশে। এখানে প্রতিনিয়তই মানুষকে রোলার দিয়ে পিষে ফেলা হয়; আর যারা একটু খোলামেলা কথা বলতে চায়, তাদের টুঁটি চেপে ধরার ব্যবস্থাও কম নেই। এর চেয়ে নির্মম বাস্তবতা আর কী হতে পারে!

মঙ্গল হোক পৃথিবীর। মগজে একটু পুষ্টির ছোঁয়া লাগুক পৃথিবীর মনুষ্যকুলের। মানুষ ভাবুক, বুঝুক, আর নিজের গণ্ডির বাইরে গিয়েও পৃথিবীটাকে দেখতে শিখুক।

আপাতত এখানেই ইতি।