শীত
নমস্কার বন্ধুরা,
এই নিয়মে বাঁধা জীবনে একটু চেনা গণ্ডির বাইরে তো মন যেতেই চায়।অচেনা হাওয়ার হিমেল পরশ,কবিতার ছন্দে আকস্মিক ছন্দপতন এই তো জীবনের আরেক সুবাস।সময় এগিয়ে যাবে তার নিয়মে আমরাও কোথাও না কোথাও বদলাবো জেনে কিংবা নিজের অজান্তে।তবুও প্রেমে পড়লে এই কবিতার মরশুমে।
শীত এলো—
প্রথমে টের পেলাম
কলের জলে হাত দিতে গিয়ে।
তারপর আলমারির ওপর থেকে
নামাতে হলো সেই কম্বল,
যার ভাঁজে গত বছরের
একটু বন্ধ ঘরের গন্ধ।
রোদে মেলে দিলাম।
রেলিংয়ের ওপাশে শহর—
কোথাও বিয়ের প্যান্ডেল উঠছে,
কোথাও ফুটপাতের সংসারে
বাড়ছে আরেকটি পলিথিনের স্তর।
একই ঋতু,
অথচ সবার কাছে
একইভাবে আসে না।
মা শীত পড়লেই বলত,
গলাটা ঢেকে বেরোস।
তখন বিরক্ত হতাম।
এখন বেরোনোর আগে
মাফলার খুঁজতে গিয়ে
কথাটা মনে পড়ে।
কত সাধারণ নির্দেশ
একদিন আর শোনা যায় না।
তোমার বোনা সোয়েটারটা
এবারও বেরিয়েছে।
এক হাতা সামান্য লম্বা—
বোনার সময় মাপ নিতে নিতে
তুমি বলেছিলে, ঠিক হয়ে যাবে।
হয়নি।
কবজি ছাড়িয়ে থাকা উলটুকু
আজও গুটিয়ে পরি।
আমাদের কত কিছুই
শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়নি।
তবু সবকিছু
ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যায়নি—
এই কথাটা বুঝতে
বেশ কয়েকটি শীত লাগল।
বিকেল দ্রুত ফুরিয়ে আসে।
অফিসের কাচে নিজের মুখ দেখলে
মনে হয়, অনেক রাত।
বাইরে বেরিয়ে দেখি
ভুট্টার আগুন ঘিরে
তিনজন দাঁড়িয়ে আছে।
একজন কিনছে,
বাকি দুজন শুধু
হাত সেঁকছে।
আমি কিছুক্ষণ পাশে দাঁড়াই।
কেউ জিজ্ঞেস করে না
কী চাই,
কতক্ষণ থাকব।
শীতের সন্ধ্যায়
এইটুকু আগুনের কাছে
অপরিচিত থাকার
বিশেষ অসুবিধে হয় না।
বাড়ি ফিরে কম্বল তুলি।
রোদ আর নেই,
কিন্তু কাপড়ের ভিতর
তার চলে যাওয়ার খবর
এখনও পুরো পৌঁছোয়নি।
মুখের কাছে টেনে নিই।
তারপর বিছানায় মেলে
এক পাশ ভালো করে গুঁজে দিই—
রাতে ঘুমের মধ্যে খুলে গেলে
এখন নিজেকেই
আবার ঢেকে নিতে হয়।
VOTE @bangla.witness as witness

OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |



