রঙ, আলো ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন
ভেতরের রঙিন আলোকসজ্জা, উপরের ফুল-ডেকরেশন, আর বাইরের দিকে ঋষি-মুনির প্রতিমা ও মা দুর্গার মহিমাময় রূপ- সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি প্যান্ডেল নয়, বরং এক জীবন্ত শিল্প গ্যালারি ছিল। ভারতীয় উপমহাদেশের দুর্গাপূজা শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়- এটি সংস্কৃতি, শিল্প এবং সামাজিক আবেগের এক বিশাল সমাহার। এখানে প্যান্ডেলের ভেতরের সাজসজ্বা। সবুজ, নীল, আকাশি এবং গোলাপি রঙের কাগজ ও রিবন দিয়ে তৈরি ঝুলন্ত ডেকরেশন। ছোট ছোট ঝিলমিল করা আলোর প্রতিফলন, ফুলের মতো আকৃতির কাগজের ডিজাইন পুরো ছাদ জুড়ে ছড়িয়ে আছে। ডিজাইন খুবই দৃষ্টিনন্দন ছিল। এছাড়া বাইরের দিকে রয়েছে দুই পাশে বসে থাকা দুইটি ঋষি/মুনির প্রতিমা, যারা একে অপরের দিকে পিঠ ফিরিয়ে অবস্থান করছে।
অর্থাৎ এখানে তারা ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে ধ্যান করছে, সেই বিষয়টা ফুটিয়ে তুলেছে। যেখানে একজনের গলায় রুদ্রাক্ষ মালা রয়েছে এবং অন্যজন লাল বসন ও ধ্যানমগ্ন অভিব্যক্ত রয়েছে। এই ধ্যান এর প্রকৃত অর্থ হচ্ছে একদিকে জ্ঞান ও তপস্যা এবং অন্যদিকে সংসার ও শক্তির প্রবাহ। একই কেন্দ্রে থাকা সত্ত্বেও দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। এই ধরনের স্থাপনা দর্শকদের মনে আধ্যাত্মিকতা ও দার্শনিক চিন্তার জন্ম দেয়। এরপরে সবথেকে মূল কেন্দ্রীয় আকর্ষণ ছিল- মা দুর্গার বিশাল প্রতিমা।দশভুজা রূপে দেবী দুর্গা, সিংহবাহিনী, অসুরবিনাশী রূপ। লাল ও সোনালি থিমে সাজানো ব্যাকড্রপ, গলায় ফুলের মালা ও অলংকারের সমাহার। এই প্রতিমাটি শুধু ধর্মীয় নয়। বরং শক্তি, নারীত্ব এবং সুরক্ষার প্রতীক।
