পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর ( পর্ব ২৩ )
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর" গল্পের ২৩ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- যেন বাক্সের ভেতরে কেউ নখ দিয়ে কাঠের গায়ে আঁচড় কাটছে। অর্ক এক পা পিছিয়ে গেল। শশাঙ্ক চোখ বন্ধ করলেন- এখনও ও জেগে আছে...। শশাঙ্ক ধীরে ধীরে চেয়ারটায় বসে পড়লেন। তারপর বললেন- তুই সত্যিটা জানতে চাস? অর্ক মাথা নাড়ল- হ্যাঁ। তাহলে আগে তোর বাবাকে বুঝতে হবে। শশাঙ্ক কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। ত্রিশ বছর আগে তোর বাবা ছিল অন্যরকম মানুষ- সাহসী, জেদি আর খুব বিশ্বাসী। অর্ক অবাক হয়ে শুনছিল। আমাদের বাবা মারা যাওয়ার পর এই বাড়ির দায়িত্ব আমার হাতে আসে। তখন তোর বাবা কলকাতায় পড়াশোনা করত আর আমি জমিদারি সামলাতাম।
জমিদারি তো তখন শেষ হয়ে গিয়েছিল কাগজে-কলমে। শশাঙ্ক হালকা হাসলেন- কিন্তু এই বাড়ির সঙ্গে গ্রামের মানুষের সম্পর্ক তখনও শেষ হয়নি।তিনি বলতে থাকলেন- এই বাড়িতে অনেক পুরনো নথি ছিল। জমির দলিল, খাজনার হিসাব, পারিবারিক রেকর্ড- সব। কিন্তু তার চেয়েও পুরনো কিছু জিনিস ছিল। অর্ক জিজ্ঞেস করল- কী জিনিস? বিশ্বাস। বিশ্বাস? হ্যাঁ। এই বাড়ির আগের প্রজন্মের মানুষ বিশ্বাস করত, কিছু জিনিস মানুষের হাতে থাকা উচিত নয়। অর্ক বিরক্ত হয়ে বলল- এগুলো কি কোনো গুপ্তধনের গল্প? না। তাহলে? শশাঙ্ক নিচু গলায় বললেন- একটা নাম। অর্ক অপেক্ষা করল- কোন নাম? শশাঙ্ক তার দিকে তাকিয়ে বললেন- নামটা ছিল অরুণেশ। অর্ক কিছুই বুঝতে পারল না। অরুণেশ কে? শশাঙ্ক বললেন- মানুষ ছিল কি না, সেটা আমরা আজও জানি না।....
