মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ২ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর দ্বিতীয় পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর বারোটা বেজে পনেরো মিনিট। অর্ণবের চোখ তখন ল্যাপটপের পর্দায়। এক কাপ কালো কফি তার ডান পাশে পড়ে আছে। তার সামনে খোলা খাতায় লেখা- “অধ্যায় ১৭”। সে গল্পের নায়ককে নিয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য লিখছিল।হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল এবং ঘরটা মুহূর্তের মধ্যে অন্ধকারে ডুবে গেল। অর্ণব চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল। “আবার গেল!”- এখানে বিদ্যুৎ যাওয়া নতুন কিছু নয়। সে মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে টেবিলের পাশে রাখা মোমবাতিটা খুঁজতে লাগল।ঠিক তখনই- ঠক, অর্ণব থেমে গেল। এরপর সে মাথা তুলে তাকাল।
শব্দটা কোথা থেকে এল?কিছুক্ষণ নিস্তব্ধতা। তারপর- ঠক, এবার একটু স্পষ্ট। মনে হলো দরজায় কেউ কড়া নাড়ল।অর্ণবের বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল।এই সময়? এই নির্জন বাড়িতে? মধ্যরাতে? সে ঘড়ির দিকে তাকাল- ১২:১৭ মিনিট। অর্ণব ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। বাইরে তখন প্রচণ্ড বাতাস বইছে। জানালার কাঁচ কাঁপছে। দূরে নদীর দিক থেকে যেন কারও কান্নার মতো একটা শব্দ ভেসে আসছে। অর্ণব দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলল- “কে?” কিন্তু কোনো উত্তর নেই। সে আবার বলল- “কে ওখানে?” নীরবতা। তারপর- ঠক... ঠক... ঠক... তিনবার। এবার শব্দটা এত কাছে যে অর্ণবের মনে হলো, কেউ তার দরজার একেবারে সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
সে দরজার হাতলে হাত রাখল, কিন্তু খুলল না। কেন জানি তার মনে হলো- এই দরজা খুললে কিছু একটা বদলে যাবে চিরদিনের জন্য। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর সে দরজার পাশের ছোট কাঁচের জানালাটা দিয়ে বাইরে তাকানোর চেষ্টা করল, কিন্ত বাইরে অন্ধকার। শুধু উঠোনের এক কোণে শুকনো গাছের ডাল বাতাসে দুলছে, কিন্তু কেউ নেই। অর্ণব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে যাচ্ছিল- ঠিক তখনই তার মোবাইল বেজে উঠল। ট্রিং... ট্রিং... অর্ণব চমকে পেছনে ফিরে তাকাল। মোবাইলটা টেবিলের ওপর পড়ে আছে। স্ক্রিনে একটা অচেনা নম্বর। সে ফোনটা হাতে নিল এবং কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে কলটি রিসিভ করল- “হ্যালো?” কিন্তু ওপাশে কোনো কথা নেই। শুধু শ্বাস নেওয়ার শব্দ- ধীর, ভারী।
তারপর খুব নিচু গলায় একজন বলল- “দরজা খুলবেন না।” অর্ণবের হাত ঠান্ডা হয়ে গেল। “আপনি কে?” ওপাশে নীরবতা। আপনি আমাকে শুনতে পাচ্ছেন? আবার সেই কণ্ঠ- ওকে ভেতরে ঢুকতে দেবেন না। অর্ণব এবার দরজার দিকে তাকাল। তারপর ফোনের দিকে- “কে? বাইরে কে আছে?” কণ্ঠস্বরটি এবার আরও নিচু হয়ে গেল- “আপনি যদি দরজা খোলেন...” কয়েক সেকেন্ড বিরতি। তাহলে আগামীকাল সকালে আপনি আর এই বাড়িতে একা থাকবেন না। এরপর কলটি কেটে গেল। অর্ণব স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর- দরজার ওপাশ থেকে একটা শব্দ এল।ঘষট... ঘষট...। যেন কেউ দরজার গায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। অর্ণব নিঃশ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল।.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





