মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ২০ )

in আমার বাংলা ব্লগ12 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000090513.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর ২০ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- মাধবী তাকে থামানোর চেষ্টা করে, কিন্তু অমল দরজা খুলে দেয়। দরজার বাইরে- কেউ নেই, শুধু একটা শিশু দাঁড়িয়ে। একই মুখ, একই পোশাক, একই উচ্চতা। অয়ন তখন ঘরের ভেতরে বসে আছে। অমল স্তব্ধ হয়ে যায় এবং মাধবী চিৎকার করে ওঠে। কারণ- ঘরে দুজন অয়ন।অর্ণব শিউরে উঠল। তারপর? নির্মলবাবু বললেন- অমল বুঝতে পারেনি কোনটা আসল। দুজনের মধ্যে পার্থক্য ছিল? একজন কাঁদছিল। আর অন্যজন? হাসছিল। কে? দরজার বাইরে দাঁড়ানোটা। অর্ণবের গলা শুকিয়ে গেল। মধ্যরাতের অতিথি? হ্যাঁ। তাহলে অমল কী করেছিল?

সে দুজনকেই আলাদা ঘরে রাখার চেষ্টা করেছিল। তারপর? ঘটনা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে গেল। নির্মলবাবু কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। যে অয়ন ঘরের ভেতরে ছিল, সে বলেছিল- বাবা, ওকে ভেতরে নিও না। আর বাইরে থাকা অয়ন বলেছিল- বাবা, ও আমি নই। অর্ণব বলল- তাহলে? দুজনেই নিজেদের আসল বলছিল। কীভাবে বুঝল? অমল একটা প্রশ্ন করেছিল। কী প্রশ্ন? অয়নের মায়ের ডাকনাম কী? একজন উত্তর দিতে পারেনি। আর অন্যজন? সে ঠিক উত্তর দিয়েছিল। অর্ণব বলল- তাহলে তো বোঝা গেল কে আসল। নির্মলবাবু মাথা নাড়লেন- না। কেন? কারণ অমল যখন উত্তরটা শুনল, তখন বুঝল- দুটো অয়নই একই উত্তর জানে। অর্ণবের বুকের ভেতর কাঁপুনি শুরু হলো। কারণ?

কারণ অতিথি শুধু অয়নের চেহারা নেয়নি। সে তার সব স্মৃতি নিয়ে নিয়েছিল। নির্মলবাবু এবার টেবিলের ওপর রাখা পুরোনো ডায়েরিটা খুললেন। এটা অমলের ডায়েরি। পাতা উল্টে একটা জায়গায় আঙুল রাখলেন। এখানে লেখা ছিল- অতিথি কোনো মৃত মানুষের আত্মা নয়, সে স্মৃতির প্রতিলিপি।আরেকটা লাইন- সে যাকে অনুকরণ করে, তার সব স্মৃতি জানে। তার নিচে- কিন্তু তার নিজের কোনো স্মৃতি নেই। অর্ণব ধীরে বলল- তাহলে সে কী চায়? নির্মলবাবু বললেন- নিজের একটা জীবন। কীভাবে? অন্যের শরীর নিয়ে। অর্ণবের মুখ শুকিয়ে গেল। তাহলে সে আমার শরীর চায়? হ্যাঁ। কেন আমার? বৃদ্ধ উত্তর দিলেন- কারণ তুমি তার সবচেয়ে নিখুঁত প্রতিলিপি। অর্ণব থমকে গেল।কার প্রতিলিপি? নির্মলবাবু ধীরে বললেন-অয়নের।

অর্ণব উঠে দাঁড়াল, কিন্তু আমি অয়ন নই! তুমি নও। তাহলে? তোমার শরীরে অয়নের স্মৃতি আছে।কীভাবে? নির্মলবাবু বললেন- ১৯৮৬ সালের পরীক্ষার সময় অমল বুঝেছিল, অতিথিকে ধ্বংস করা যাবে না। তাহলে কী করেছিল? সে একটা নতুন শরীরের সন্ধান করেছিল। অর্ণবের গলা কেঁপে উঠল। আমার? হ্যাঁ। কিন্তু আমি তখন জন্মাইনি সেই কারণেই। অর্ণব স্তব্ধ হয়ে গেল।অমল তোমার বাবাকে বলেছিল, যদি অয়নের স্মৃতি কোনো নতুন শিশুর মস্তিষ্কে স্থানান্তর করা যায়, তাহলে অতিথি সেই শিশুর সঙ্গে আটকে যাবে। আর সেই শিশু ছিলাম আমি? হ্যাঁ। আমার বাবা রাজি হয়েছিল? নির্মলবাবু চোখ নামিয়ে বললেন- হ্যাঁ। অর্ণবের বুকের ভেতর আগুন জ্বলতে লাগল। তাহলে আমার বাবা আমাকে ব্যবহার করেছে? সে তোমাকে বাঁচাতে চেয়েছিল।...


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png


Original image no longer available