কালো খামের চিঠি ( পর্ব ৯ )

in আমার বাংলা ব্লগ6 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000088311.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "কালো খামের চিঠি" এর নবম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপরে ওই পাতায় লেখা ছিল- ছবি নম্বর ১৩। সেই ছবিতে দাঁড়িয়ে আছে ঐশী। অর্ণবের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এল। ছবির নিচে লেখা- Subject-13 : স্মৃতি আংশিকভাবে মুছে ফেলা হয়েছে এবং পর্যবেক্ষণ চলমান। তার মাথা ঘুরে উঠল। এর মানে ঐশীকে কেউ ইচ্ছা করে কোনো পরীক্ষার অংশ বানিয়েছিল? এরপর সে দ্রুত পরের পাতা খুলল এবং সেখানে আরেকটি ছবি। এইবার ছবি নম্বর ১৪। অর্ণব বিস্ময়ে স্থির হয়ে গেল। ছবিতে দাঁড়িয়ে আছে- সে নিজে। কিন্তু তার তো এই জায়গায় থাকার কথা নয়! ছবির নিচে লেখা- Subject-14 : পর্যবেক্ষণ স্থগিত।

স্মৃতি সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত। অর্ণবের হাত থেকে ফাইলটা পড়ে গেল এবং সে দেয়ালে ভর দিয়ে দাঁড়াল। তার মানে সে নিজেও এই ঘটনার অংশ ছিল? কিন্তু তার কিছুই মনে নেই কেন? ঠিক তখনই ঘরের পুরোনো কম্পিউটারটি নিজে থেকেই চালু হয়ে গেল। মনিটরে একটি মাত্র বাক্য ভেসে উঠল- স্বাগতম, Subject-14. তারপর নিচে আরেকটি লাইন- তুমি অবশেষে ফিরে এসেছ। অর্ণব আতঙ্কে পিছিয়ে গেল। হঠাৎ পুরো ঘরের লাইট একসঙ্গে জ্বলে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে ভারী লোহার দরজাটি প্রচণ্ড শব্দে বন্ধ হয়ে গেল। সে দৌড়ে দরজার কাছে গেল। টানল এবং ধাক্কা দিল।কোনো লাভ হলো না, ঠিক তখনই স্পিকারে ভেসে এল একটি পরিচিত কণ্ঠ- শান্ত, ধীর এবং ভয়ঙ্কর।

অর্ণব এতদিন ধরে তুমি সত্য খুঁজছিলে। আজ সত্য তোমাকে খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু মনে রেখো- সব সত্য মানুষকে মুক্তি দেয় না, কিছু সত্য মানুষকে ধ্বংসও করে। অর্ণব স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সে কণ্ঠস্বরটি চিনতে পারছে। অনেক বছর আগে খুব কাছের কারও কণ্ঠ। কিন্তু ঠিক কার?স্মৃতির ভেতর থেকে উত্তর বের হওয়ার আগেই কম্পিউটারের পর্দায় ধীরে ধীরে একটি মুখ ভেসে উঠতে শুরু করল আর সেই মুখটি দেখে অর্ণবের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। সে অস্ফুট স্বরে শুধু একটি নাম উচ্চারণ করল- অসম্ভব। এরপর কম্পিউটারের পর্দায় ধীরে ধীরে মুখটি স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। অর্ণব নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে রইল।এক সেকেন্ড, দুই সেকেন্ড। তারপর তার ঠোঁট কেঁপে উঠল- ড... ডক্টর রায়? পর্দায় ভেসে থাকা মানুষটি মৃদু হেসে বললেন- অবশেষে মনে পড়েছে, অর্ণব।

অর্ণবের চোখ বিস্ফারিত- ডক্টর অরিন্দম রায়! নামটা বহু বছর আগে সংবাদপত্রে পড়েছিল সে। একজন বিখ্যাত স্নায়ুবিজ্ঞানী।সরকারি অর্থায়নে শিশুদের স্মৃতিশক্তি নিয়ে গবেষণা করতেন, কিন্তু ২০০৯ সালে এক রহস্যময় ল্যাব বিস্ফোরণে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়।অর্ণব নিজেও সেই খবর পড়েছিল। তাহলে তিনি কীভাবে জীবিত? নাকি এটি কোনো পুরোনো রেকর্ডিং? ঠিক তখনই পর্দার মানুষটি বললেন- তুমি এখন যা ভাবছ, তার প্রতিটি প্রশ্ন আমি জানি। কারণ এই মুহূর্তটাকে আমি বহু বছর আগে হিসাব করে রেখেছিলাম। অর্ণব কাঁপা গলায় বলল- আপনি... আপনি কে? সত্যি বলুন! লোকটি কিছুক্ষণ চুপ থেকে উত্তর দিলেন- আমি সেই মানুষ, যাকে সবাই মৃত ভেবেছে। আর আমি সেই মানুষও, যে তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটি করেছিল।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png


Original image no longer available