বন্ধুদের সাথে কিছু সময় কাটানোর মুহূর্ত।
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।
আশা করি, মহান আল্লাহ তায়ালার অশেস রহমতে আপনারা সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন, আমিও আপনাদের দোয়াতে আলহামদুলিল্লাহ অনেক অনেক ভালো আছি।
ঘোরাঘুরি আমাদের জীবনে সুন্দর কিছু মুহূর্তকে স্মৃতির পাতায় লিখে রাখার একটি মাধ্যম,বাস্তব জীবনে পড়ালেখার মাঝে দিয়ে বন্ধুদের সাথে একটু সময় কাটানো, নতুন কোন জায়গায় যাওয়া বা নতুন কিছু দেখা এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার মজাই আলাদা, বেশ কিছুদিন আগের গল্প, তারিখ ২৪/৭/২০২৬, সেদিন ছিলো শুক্রবার, স্থান গুলশান বনানী।

প্রতিদিনের মতো ঘুম থেকে সকালে উঠে নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ পড়ালেখা করলাম, সকালের নাস্তা করে বসেছিলাম তার মধ্যে এক বন্ধু ফোন দিয়ে বলল আজকের জুম্মার নামাজটা বনানী ৫ নাম্বার গেটে পড়বে, যেহেতু আমার কোন কাজ কাম ছিলোনা তাই আমিও রাজি হলাম, যখন যোহরের আজান দিল তখন তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আমরা তিনজন মিলে বনানী ৫ নাম্বার গেট বড় মসজিদে গেলাম, আমরা অনেক মসজিদে গিয়ে তাও আমরা মসজিদের পাঁচ তালায় বসলাম, ওইখানে নামাজ শেষ করে কিছুক্ষণ শুয়েছিলাম তার মধ্যে থেকে এক বন্ধু বলল অনেকদিন ধরে বনানী ও গুলশানের মধ্যে যে দুইটি পার্ক আছে তা ঘুরে আসি, পরে আমরা তিন জন রাজি হলাম।
নামাজ শেষ করে আমরা যার যার মত বাসায় চলে গেলাম, ঠিক চারটার সময় আমরা সবাই একসাথে বাসা থেকে বের হলাম, প্রথমে আমরা তিনজন মিলে বনানী ১১ নাম্বার রোডে ছিলাম, ওইখানে আমরা মাগরিব পর্যন্ত ছিলাম, বনানী ১১ নাম্বার রাস্তায় একটি ব্রিজ আছে ওইখানে বিকেলবেলা অনেক মানুষ আসে, আমরাও এখানে ছিলাম এবং বিকালের সুন্দর আবহাওয়া উপভোগ করলাম, মাগরিবের আজান দিলে ঐ স্থান থেকে আমরা চলে যাই গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে, মাগরিবের নামাজ পড়ে আমরা বাহির হই,এই মসজিদের পাশেই একটি ছোট পার্কে ছিল, তার নাম গুলশান লেক পার্ক।
মসজিদ থেকে হেঁটে যাইতে ১০ মিনিটের মত সময় লাগে, ওইখানে শুধু শিশু বাচ্চাদের জন্য খেলাধুলার স্থান এবং চারপাশে দিয়ে হাটাহাটি করার জন্য সুন্দরভাবে রাস্তা দেওয়া আছে, ওইখানে আমরাও কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে বের হয়ে গেলাম, ওইখান থেকে বেশ দূরে আরেকটি পার্ক ছিল ওটার নাম শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্ক, এখানে আমরা গল্প করতে করতে চলে গেলাম, কখনো এ পার্কে যাওয়া হয়নি তাই পার্কের আশেপাশে যা কিছু আছে সবকিছু আগে দেখে নিলাম।
দেখা শেষ হলে আমরা তিনজন মিলে ভিতরে ঢুকলাম, ভিতরে দেখার মত তেমন কিছুই নাই কিন্তু মাঝখানে একটি ছোট লেগ আছে ওইটা দিয়েই পুরো পার্কটি ফুটে রয়েছে, পার্কের মধ্যে অনেকক্ষণ বসেছিলাম এবং হালকা কিছু খাওয়া দাওয়া করে নিলাম, এ পার্কের মধ্যে সবচেয়ে বেশিরভাগ সময়ে স্কুল-কলেজের , ছাত্র-ছাত্রীদেরকে দেখা যায়, এমনও অনেক ছাত্ররা আছে যে ক্লাসে না গিয়ে এখানে বসে বসে আড্ডা দেয়,ক্লাস টাইম শেষ হয়ে গেলে যে যার মত বাসায় চলে যায়।
যাই হোক আমরাও এশারের আজান দিলে ওখান থেকে বের হয়ে গেলাম, এই পার্ক থেকে ডাইরেক আমরা পাঁচ নাম্বার গেট মসজিদে চলে আসি, ওই মসজিদে অনেকক্ষণ শুয়েছিলাম, মনে চাচ্ছিল আজকের রাতটা মসজিদে কাটিয়েছি, কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবারো আমরা বের হয়ে হালকা নাস্তা করে যে যার মত বাসায় চলে যাই।
আলহামদুলিল্লাহ, এভাবেই আমাদের সুন্দর ঘোরাঘুরির দিনটি আনন্দ, হাসি ঠাট্টা ও নানা স্মরণীয় মুহূর্তের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। সময়টা হয়তো বেশি দীর্ঘ ছিল না, কিন্তু একটু ভ্রমণের অনেক কিছু স্মৃতি হয়ে আমাদের জীবনে থাকবে।
এই ছিল আমাদের সুন্দর ঘোরাঘুরির ছোট্ট গল্প, আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ভালো রাখুন, সুস্থ রাখুন।
আল্লাহ হাফেজ।
| Device | Name |
|---|---|
| Android | samsung |
| Camera | 64 mp |
| Location | Dhaka, Bangladesh 🇧🇩 |
| Short by | @rjabdullah |






